নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন মনে হচ্ছে? নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার ৫টি উপায়
Have you lost touch with your identity amid work, relationships, and other people’s expectations? Learn 5 ways to reconnect with your feelings, preferences, values, and sense of self and rediscover who you are.

Saima Islam
Assistant Clinical Psychologist

কখনো কি মনে হয়েছে, সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু নিজের ভেতরে যেন আগের সেই “আমি”-টাকে আর খুঁজে পাচ্ছেন না? কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক, পরিবার কিংবা অন্যদের প্রত্যাশা সামলাতে সামলাতে অনেক সময় আমরা নিজের পছন্দ, ইচ্ছা এবং অনুভূতিগুলো থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাই।
তখন প্রশ্ন আসে, “আমি আসলে কী চাই?”, “আগে যেসব জিনিস ভালো লাগত, এখন সেগুলো আর ভালো লাগে না কেন?”, অথবা “আমি কি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি?”
এমন অনুভূতি মানেই যে আপনার জীবনে বড় কোনো সমস্যা হয়েছে, তা নয়। বরং এটি হতে পারে নিজের দিকে একটু নতুন করে তাকানোর সময় এসেছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার ৫টি সহজ উপায়।
Key Takeaways
- নিজের অনুভূতি ও চাহিদার দিকে সচেতনভাবে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
- সব সময় অন্যদের প্রত্যাশা অনুযায়ী চললে নিজের পরিচয় ও পছন্দগুলো ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।
- পুরোনো আগ্রহের পাশাপাশি নতুন কিছু চেষ্টা করাও নিজেকে জানার একটি উপায়।
- ব্যক্তিগত boundaries তৈরি করা নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- দীর্ঘদিন নিজেকে বিচ্ছিন্ন বা দিশাহীন মনে হলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলা সহায়ক হতে পারে।
নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার ৫টি উপায়
১. একটু থামুন এবং নিজের অনুভূতিগুলো লক্ষ্য করুন
ব্যস্ততার মধ্যে আমরা প্রায়ই অন্যদের কথা শুনি, কিন্তু নিজের ভেতরের কথাগুলো শোনার সুযোগ খুব কমই পাই। নিজেকে কিছু সহজ প্রশ্ন করতে পারেন,
- আমি এখন কী অনুভব করছি?
- কোন বিষয়গুলো আমাকে সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত করছে?
- কোন কাজগুলো আমাকে শান্তি দেয়?
- আমি আসলে কী চাই?
সব প্রশ্নের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া জরুরি নয়। প্রতিদিন কয়েক মিনিট নিজের অনুভূতি লিখে রাখলেও ধীরে ধীরে নিজের চিন্তা, চাহিদা এবং অস্বস্তির জায়গাগুলো পরিষ্কার হতে শুরু করতে পারে।
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার প্রথম ধাপ অনেক সময় নতুন কিছু করার মধ্যে নয়; বরং নিজের ভেতরে কী চলছে, সেটি বুঝতে শেখার মধ্যে।
২. অন্যদের প্রত্যাশা আর নিজের চাওয়ার পার্থক্য বুঝুন
ছোটবেলা থেকেই আমাদের জীবনে অনেক ধরনের প্রত্যাশা থাকে, পরিবারের প্রত্যাশা, সামাজিক প্রত্যাশা, কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা কিংবা সম্পর্কের মানুষের প্রত্যাশা।
সমস্যা তখনই তৈরি হতে পারে, যখন আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলি,
“অন্যরা আমার কাছ থেকে কী চায়?”
কিন্তু নিজেদের আর জিজ্ঞেস করি না, “আমি কী চাই?”
ক্যারিয়ার, সম্পর্ক, জীবনযাপন কিংবা ছোট ছোট সিদ্ধান্তেও লক্ষ্য করুন, আপনি যা করছেন সেটি আপনার নিজের ইচ্ছা থেকে করছেন, নাকি শুধুই অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য। অন্যদের কথা গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। তবে নিজের মূল্যবোধ এবং চাহিদার জন্যও জীবনে জায়গা রাখা দরকার।
৩. যেসব কাজ একসময় ভালো লাগত, সেগুলোর কাছে ফিরে যান
নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি মনে হলে নিজের পুরোনো পছন্দগুলোর দিকে একটু ফিরে তাকাতে পারেন। হয়তো একসময় ছবি আঁকতে ভালো লাগত, গান শুনতেন, বই পড়তেন, রান্না করতেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেন কিংবা একা হাঁটতে বের হতেন। ব্যস্ত জীবনে কখন যে এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, হয়তো খেয়ালই করেননি।
সবকিছু আবার আগের মতো শুরু করতে হবে এমন নয়। ছোট করে শুরু করুন। একদিন ১৫ মিনিট বই পড়া, ছুটির দিনে ছবি আঁকা, পছন্দের গান শোনা বা পরিচিত কারও সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, এমন ছোট ছোট অভিজ্ঞতাও নিজের সঙ্গে আবার সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
একই সঙ্গে নতুন কিছু চেষ্টা করতেও পারেন। কারণ নিজেকে খুঁজে পাওয়া মানে শুধু পুরোনো নিজেকে ফিরে পাওয়া নয়; আপনি বর্তমানে কে হয়ে উঠছেন, সেটিও আবিষ্কার করা।
৪. নিজের জন্য Healthy Boundary তৈরি করুন
নিজেকে হারিয়ে ফেলার একটি কারণ হতে পারে সব সময় অন্যদের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের আগে রাখা।
কারও অনুরোধে সব সময় “হ্যাঁ” বলা, নিজের বিশ্রামের সময়েও কাজ নেওয়া, অস্বস্তি হলেও কিছু বলতে না পারা কিংবা অন্য কাউকে কষ্ট না দেওয়ার জন্য নিজের অনুভূতি চেপে রাখা, এসব দীর্ঘদিন চললে নিজের চাহিদাগুলো ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে।
Healthy boundary মানে কাউকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং নিজের সময়, শক্তি এবং মানসিক স্বস্তির সীমা সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
যেমন বলা যেতে পারে,
“আজকে আমার পক্ষে এটা করা সম্ভব হচ্ছে না।”
অথবা,
“এই বিষয়টি নিয়ে একটু সময় নিয়ে তারপর কথা বলতে চাই।”
নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন হওয়া আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে, কোন বিষয়গুলো আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনি কোন ধরনের জীবন চান।
৫. নতুন লক্ষ্য ঠিক করুন, তবে খুব ছোট থেকে
নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি মনে হলে অনেকেই হঠাৎ পুরো জীবন বদলে ফেলতে চান। কিন্তু সবকিছু একসঙ্গে পরিবর্তনের চেষ্টা বরং আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
তার বদলে ছোট একটি লক্ষ্য দিয়ে শুরু করুন।
উদাহরণ হিসেবে আগামী এক সপ্তাহে,
- প্রতিদিন ১০ মিনিট নিজের জন্য সময় রাখা,
- একটি পুরোনো hobby আবার শুরু করা,
- সপ্তাহে একদিন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা,
- ঘুমের রুটিন একটু গুছিয়ে নেওয়া,
- অথবা প্রতিদিন নিজের অনুভূতি নিয়ে কয়েক লাইন লেখা যেতে পারে।
ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই আপনি বুঝতে শুরু করবেন কোন জীবনধারা, মানুষ, কাজ এবং অভিজ্ঞতাগুলো আপনার কাছে সত্যিকার অর্থে গুরুত্বপূর্ণ।
নিজেকে খুঁজে পাওয়া কোনো একদিনের কাজ নয়
আমরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বদলাই। ২০ বছর বয়সে আপনি যেভাবে নিজেকে চিনতেন, ২৫ বা ৩০ বছর বয়সে সেই পরিচয় একই থাকবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।
তাই “আমি আগের মতো নেই”, এই উপলব্ধিটিকে সব সময় নেতিবাচকভাবে দেখার প্রয়োজন নেই। আপনি হয়তো বদলেছেন, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং এখন নিজের সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে শুরু করেছেন।
নিজেকে খুঁজে পাওয়া মানে একটি নির্দিষ্ট “সঠিক আমি” খুঁজে বের করা নয়। বরং নিজের অনুভূতি, মূল্যবোধ, চাহিদা এবং জীবনের দিকনির্দেশনার সঙ্গে ধীরে ধীরে আরও ভালোভাবে পরিচিত হওয়া।
কখন সাহায্য নেওয়ার কথা ভাববেন?
কখনো কখনো নিজেকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতির সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, কোনো কিছুতেই আনন্দ না পাওয়া, মানুষের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বা দৈনন্দিন কাজ সামলাতে সমস্যা হওয়ার মতো অভিজ্ঞতাও থাকতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সবকিছু একা বুঝে ওঠা কঠিন লাগতেই পারে। একজন মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলা নিজের অনুভূতি, চিন্তার ধরন, চাহিদা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।এখনই রিল্যাক্সি অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং সেশন বুক করুন এই লিংক থেকে।
কখনো কখনো নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার শুরুটা হয় খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন থেকে, “আমি কেমন আছি, সত্যি করে?”
Did you find this article helpful?

Saima Islam
Assistant Clinical Psychologist
Warm and empathetic psychologist specializing in CBT and DBT for depression, anxiety, trauma, and relationship challenges