Home/Blogs/টিনএজ সন্তানের আচরণে পরিবর্তন? কীভাবে পাশে থাকবেন একজন পিতা-মাতা হিসেবে
Mental Health
2 views

টিনএজ সন্তানের আচরণে পরিবর্তন? কীভাবে পাশে থাকবেন একজন পিতা-মাতা হিসেবে

হঠাৎ করে আপনার কিশোর সন্তানের আচরণ বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে? এই লেখায় জানুন কিশোর বয়সে আচরণগত পরিবর্তনের সাধারণ কারণ, এর মানসিক দিক এবং একজন অভিভাবক হিসেবে কীভাবে ধৈর্য ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সন্তানের পাশে থাকা যায়।

S

Saima Islam Disha

Psychologist

টিনএজ সন্তানের আচরণে পরিবর্তন? কীভাবে পাশে থাকবেন একজন পিতা-মাতা হিসেবে

এক সময় যে সন্তান মনের কথা খোলাখুলি বলতো, এখন সে একা থাকতে চায়। কথায় কথায় রেগে যায়, দরজা বন্ধ করে বসে থাকে, মোবাইল ছাড়া যেন চলেই না। আপনি ভাবছেন—“ওর কি কিছু হয়েছে? না আমি ভালো বাবা-মা হতে পারছি না?”

টিনএজ বা কিশোর বয়স এমন একটি সময়, যেখানে শরীর ও মানসিকতায় আসে বিশাল পরিবর্তন। এই সময় সন্তান একটু দূরে সরে যেতে পারে, কিন্তু তাদের পাশে থেকে বোঝা আর সহানুভূতির সাথে সাড়া দেওয়াই একজন পিতা-মাতার বড় দায়িত্ব।

টিনএজ বয়সে কী কী পরিবর্তন হয়?

কিশোর-কিশোরীরা তাদের আত্মপরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করে। তারা প্রশ্ন করে, জিজ্ঞেস করে, আবেগে ভাসে। এই সময়ে যেসব পরিবর্তন হতে পারে:

  • মুড সুইং বা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন
     
  • অতিরিক্ত রাগ বা গুটিয়ে থাকা
     
  • গোপনীয়তা চাওয়া বা বন্ধুর উপর নির্ভরতা
     
  • আত্মবিশ্বাসে উঠানামা
     
  • পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাওয়া
     
  • প্রযুক্তি নির্ভরতা বা সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি
     

এই পরিবর্তনগুলো কি চিন্তার কারণ?

সব পরিবর্তন খারাপ নয়। অনেক সময় এগুলো বয়সজনিত স্বাভাবিক আচরণ। তবে যদি আপনি লক্ষ্য করেন:

  • দীর্ঘ সময় বিষণ্নতা বা অতিরিক্ত রাগ
     
  • ঘুম বা খাওয়ায় বড় পরিবর্তন
     
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব
     
  • আত্মহানির ইঙ্গিত বা খুব নেগেটিভ কথা
     

তবে পেশাদার কাউন্সেলিং জরুরি।

একজন বাবা-মা হিসেবে কীভাবে পাশে থাকবেন?

১. শুনুন, জিজ্ঞেস নয়

তাদের প্রতিটি কাজের জবাব খোঁজার চেয়ে তাদের অনুভূতি শোনার চেষ্টা করুন। “তুমি আজ কেমন আছো?”, “কিছু নিয়ে চিন্তায় আছো?”—এই প্রশ্নগুলো সম্পর্ক গড়ার প্রথম ধাপ।

২. আপনার অভিজ্ঞতা চাপিয়ে দেবেন না

“আমার সময়ে এসব চলতো না” বলা মানেই তাদের বোঝার দরজা বন্ধ করে দেওয়া। সময় বদলেছে—তাদের জগৎ, চাপ, চাহিদাও বদলেছে।

৩. সমালোচনা নয়, সহানুভূতি দিন

পড়াশোনায় কম রেজাল্ট? নতুন বন্ধুর সাথে বেশি সময়? আগে রেগে না গিয়ে জানার চেষ্টা করুন কেন এমন হচ্ছে। তাদের মন বুঝতে পারলে সমাধান আপনাআপনি স্পষ্ট হবে।

৪. নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করুন

তারা যেন জানে, “আমি মা/বাবার কাছে সব কিছু বলতে পারি”—এই বিশ্বাস গড়ে তুলুন। একবার ভরসা হারালে সেটা ফিরিয়ে আনা কঠিন।

৫. কাউন্সেলিংকে স্বাভাবিক করে তুলুন

মন খারাপ মানেই থেরাপি দরকার—এ ধারণা বদলান। থেরাপি মানে মনের যত্ন, নিজের কথা বলা, নিজের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া। সন্তানকে সহায়তা করুন যেন সে একজন সার্টিফায়েড থেরাপিস্টের সঙ্গে সহজে কথা বলতে পারে।

 আপনি তাদের পথপ্রদর্শক, না জজ?

আপনার সন্তান হয়তো আপনাকে বিরক্ত করে, কথা শুনতে চায় না—কিন্তু মনে রাখবেন, তাদের নিরাপদ জায়গা এখনো আপনিই। আপনি যদি ধৈর্য ও ভালোবাসা দিয়ে পাশে থাকেন, তারা একদিন ঠিকই ফিরে আসবে।

এখনই রিল্যাক্সি অ্যাপে বুক করুন টিন ফ্রেন্ডলি কাউন্সেলিং সেশন

✅ টিনএজ মন বুঝতে পারদর্শী সার্টিফায়েড থেরাপিস্ট
✅ প্যারেন্ট-কিড সাপোর্ট সেশন
✅ বাংলা ভাষায় প্রাইভেট, কনফিডেনশিয়াল সেবা

👉 এখনই রিল্যাক্সি অ্যাপ ডাউনলোড করুন
👉 আপনার প্রিয়জনের পাশে থাকুন এবং কাউন্সেলিং নিতে তাদের উদ্বুদ্ধ করুন।

টিনএজ সন্তানের আচরণে পরিবর্তন মানে বিপদ নয়—বরং আপনাদের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়।
আপনি যদি পাশে থাকেন, তার পথ কখনোই হারিয়ে যাবে না।

Did you find this article helpful?

S

Saima Islam Disha

Psychologist

Expert in mental health and wellness, dedicated to helping individuals achieve better mental well-being through evidence-based practices and compassionate care.

Relaxy SupportOnline
Relaxy Support

Hello! 👋 How can we help you today?

14:37