কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি কি এবং কিভাবে কাজ করে?
Counseling or psychotherapy is a scientific, judgment-free process where a trained psychologist helps you navigate emotional struggles, anxiety, and relationship issues. Explores how therapy works and what to expect during your first session.

Saima Islam
Assistant Clinical Psychologist

Key-Takeaways
কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি হলো একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানীর (Psychologist) সাহায্যে কোনো রকম জাজমেন্ট ছাড়া নিজের মানসিক ও আবেগগত সমস্যা সমাধানের একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তা, হতাশা, ট্রমা বা সম্পর্কের টানাপোড়েন যখন জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে, তখন থেরাপির মাধ্যমে চিন্তাভাবনা ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন এনে মানসিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এটি মূলত একটি নির্ভরযোগ্য এবং সম্পূর্ণ গোপনীয় একটি জার্নি, যেখানে কোনো বড় মানসিক রোগ ছাড়াই কেবল আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বা জীবনদক্ষতা উন্নত করতেও সেশন নেওয়া যায়। প্রথম সেশনটি সাধারণত সমস্যা বোঝার (Assessment) জন্য করা হয়, এবং এই এসেসমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে পরবর্তী সেশন প্লান করা হয় ক্লায়েন্ট এর সাথে আলোচনার মাধ্যমে।
কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি কি এবং কিভাবে কাজ করে?
কখনও কি এরকম হয়েছে,একের পর এক চিন্তা মাথায় আসতে আসতে দুশ্চিন্তার এক পাহাড় তৈরি হয়ে গেছে; যার কারনে হয়তো হঠাৎ করে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে; রাতে ঘুম আসছে না; মনে হয় যেন বুকের ভেতর ভারী একটা কিছু চাপ দিয়ে রয়েছে? আবার হয়তো চারপাশে সবাই আছে কিন্তু তবুও নিজেকে একা লাগছে, আপনি ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত অনুভব করছেন, অস্থির বোধ করছেন।
যখন এমন হয়, তখন মনে হয় জীবনের আর হয়তো কোন মানেই নেই, বা এসবের থেকে হয়তো কোন মুক্তি নেই। জীবনের নানাবিধ চাপ, সম্পর্কের জটিলতা, কাজের দায়িত্ব বা হঠাৎ ঘটে যাওয়া বড় কোনো ঘটনা আমাদের অনেকের মধ্যেই এইরকম অনুভূতি তৈরি করে যায়। ঠিক এখানেই কাউন্সেলিং থেরাপি বা সাইকোথেরাপি আমাদের সাহায্য করতে পারে।
কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা এই সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং কি, কিভাবে কাজ করে, কখন থেরাপি নিতে হবে বা কিভাবে একজন থেরাপিস্ট চুজ করতে পারি। এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন আমাদের আবার আরেক ধাঁধায় ফেলে দেয়। তাই চলুন জেনে নেই এই কমন কিছু বিষয় সম্পর্কে যেগুলো আপনার থেরাপি জার্নিকে আরো সহজ করবে।
কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি কী?
আমাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তার সঙ্গে প্রতিদিনের জীবনে মোকাবিলা করা যখন কঠিন হয়ে যায় তখন সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং থেরাপি এই ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।
কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী আপনাকে আপনার মানসিক ও আবেগগত সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করেন। এটি কেবল সমস্যা সমাধান নয়, বরং আপনাকে হেলদি লাইফস্টাইল, পজেটিভ থিংকিং এবং মানসিক সুস্থতা অর্জনে সাহায্য করে।
থেরাপিতে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেমন: কগনিটিভ-বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) যা আপনার চিন্তা ও আচরনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে আপনাকে আপনার দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে দক্ষ করে তুলবে। থেরাপিস্ট আপনাকে কোন রকম জাজমেন্ট না করে আপনার কথা শুনবেন, প্রশ্ন করবেন এবং আপনার চিন্তাভাবনা ও আচরণ বোঝার ও পরিবর্তন করার মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করবেন ।
এখনো প্রশ্ন আসতে পারে যে কেন থেরাপি নিব, আমি নিজেই কি সমাধান করতে পারবো না বা এমনি এমনি কি ঠিক হবেনা? তাহলে চলেন জেনে নেই এই প্রশ্নের উত্তর গুলোও-
কেন কাউন্সেলিং প্রয়োজন হতে পারে?
যখন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে দুশ্চিন্তা, হতাশা বা রাগ অনুভব করেন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বা জীবনের কঠিন পরিস্থিতি যেমন বিচ্ছেদ, পরিবারের মৃত্যু, চাকরিতে চাপ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যান, তখন প্রাথমিকভাবে আমরা নানাভাবে নিজেকে ভালোরাখার চেষ্টা করলেও ওই পরিমান মানসিক শক্তি না থাকার কারনে নিজেকে সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারিনা। আবার অন্যরাও ব্যক্তির মতো করে তার কষ্টগুলো না বুঝতে পারার এবং প্রফেশনাল দক্ষতা না থাকার কারনে যথাযথ সাহায্য করতে পারেন পদ্ধতি অনুসরনের মাধ্যমে না। তখন আমাদের প্রয়োজন হয় এমন কারও সাহায্য যিনি ব্যক্তিকে ব্যক্তির মতো বুঝবে এবং তার অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক কার্যকরী সমাধান দিয়ে থাকবে।
থেরাপি আপনাকে শুধুমাত্র সমস্যার সমাধান দিতে পারে তা না, বরং নতুন দক্ষতাও শেখায় যা ব্যক্তির ভবিষ্যতে যে কোগা তৈরি কনো চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
যদি আপনি দীর্ঘ সময় হতাশা অনুভব করেন, সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন এবং কষ্ট পাচ্ছেন, অতিরিক্ত চিন্তিত থাকেন, অথবা কোনো আচরণ আপনার বা অন্যদের সাথে সম্পর্কের ক্ষতির কারন হয়ে থাকে তাহলে একজন দক্ষ, প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট অথবা থেরাপিস্ট এর কাছে থেরাপি নেওয়া জরুরি।
এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এই কাউন্সেলিং আসলেই কি কাজ করে? করলে কিভাবে করে? সেই উত্তর ও আছে এখানেই-
কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি কিভাবে কাজ করে?কাউন্সেলিং আসলে এক ধরনের জার্নি। এখানে আপনি একা নন। একজন অভিজ্ঞ প্রফেশনাল থেরাপিস্ট আপনার পাশে থাকেন। তিনি আপনাকে কোনো পরামর্শ বা উপদেশ দিয়ে বলবেন না যে “এটা করো, ওটা করো না।” বরং তিনি একটি ভরসাযোগ্য জায়রেন, যেখানে আপনি নির্ভয়ে নিজের অনুভূতি, দুঃখ-কষ্ট কিংবা চিন্তা, আচার আচরন শেয়ার করতে পারবেন। নিজের জীবনের সমস্যা গুলোর বিকল্প সমাধান বের করে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবেন। সেইসাথে নতুনভাবে জীবনটাকে দেখার এক অভ্যাস তৈরি করে দিয়ে যাবে কাউন্সেলিং।
কাউন্সেলিং এর মূল লক্ষ্য হলো আপনার মনের গভীর অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা বোঝা, বিশেষ করে যদি আপনি কোনো ট্রমার মধ্য দিয়ে গিয়ে থাকেন। নিজেকে এবং অন্য সব কিছু নিয়ে নেগেটিভ চিন্তার ধরন বুঝে আপনাকে সাহায্য করা বিকল্প পজেটিভ চিন্তা তৈরিতে। থেরাপিস্ট আপনাকে কোনরকম জাজ করবেনা; বরং তারা আপনাকে আপনার মতো করে বুঝে ও সাপোর্টের মাধ্যমে কাজ করবেন।
কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে আপনি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করবেন,কোন পরিস্থিতি বা চিন্তা আপনাকে বেশি প্রভাবিত করছে, কেন আপনি কিছু বিশেষ আচরণ করছেন, আর সেগুলো আপনার জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলছে। থেরাপিস্ট বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কৌশল ব্যবহার করে আপনাকে সাহায্য করবেন নেতিবাচক চিন্তা চিনতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে এবং সমস্যা গুলোকে নতুনভাবে মোকাবিলা করার উপায় শেখানোর মাধ্যমে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কাউন্সেলিং আপনাকে শিখতে সাহায্য করে কিভাবে নিজের ভেতরেই উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। সময়ের সাথে সাথে আপনি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন, আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো সামলানোর শক্তি তৈরি হবে। তাই থেরাপি শুধু সমস্যার সমাধানই নয়, বরং আপনাকে আরও স্টেবল, আত্মবিশ্বাসী ও সুখী জীবন যাপন করতে সাহায্য করে।
থেরাপিস্ট আপনাকে সাহায্য করতে পারেন,
আপনার সমস্যাগুলোর মূল কারন বোঝার মাধ্যমে
এমন বিষয় নিয়ে কথা বলা যা আপনি অন্য কাউকে বলতে পারেন না
আবেগ ও চিন্তার সঙ্গে ভালভাবে মোকাবিলা করার উপায় শেখানোর মাধ্যমে
চিন্তাভাবনা ও আচরণগত পজিটিভভাবে পরিবর্তন কর্রে
ব্যক্তিগত ও পরিবারের সদস্যদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করে
ট্রমা থেকে বের হয়ে আসতে পারার মাধ্যমে
সেশনগুলোতে থেরাপিস্ট আপনার জীবন ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। কখনও সেশন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, যার ফলে আপনি কাঁদতে, রাগ অনুভব করতে বা হতাশ হতে পারেন। এটি একটি স্বাভাবিক থেরাপি প্রসেস। থেরাপিস্ট আপনাকে সাহায্য করবেন এই আবেগগুলো সামলে উঠতে।
কারা থেরাপি থেকে উপকৃত হতে পারেন?
আচ্ছা আমি যদি নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে দেখতে চাই, সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়া শিখতে চাই তাহলে কি আমি কাউন্সেলিং নিতে পারবোনা?
অবশ্যই পারবেন। কাউন্সেলিং নেওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই কোনো বড় মানসিক সমস্যা বা ডায়াগনোসিস থাকতে হবে না। এটি যেকোনো ধরণের আবেগ বা মানসিক চাপ মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ,
ডিপ্রেশন, ভয় বা প্যানিক অ্যাটাক থাকলে
শোক, বা দুঃখ থেকে বের হয়ে আসতে
আত্মবিশ্বাসের অভাব বা আত্মসম্মান কমে গেলে
জীবনের বড় পরিবর্তন (চাকরি হারানো, বিবাহবিচ্ছেদ, অসুস্থতা, প্রিয়জনের মৃত্যু) হলে
উদ্বেগ বা অতিরিক্ত চিন্তা (Anxiety)
স্ট্রেস বা চাপপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায়
অতীতের নির্যাতনের প্রভাব বা ট্রমা মোকাবিলা
Mood swings
সম্পর্ক তৈরি বা বজায় রাখতে অসুবিধা
যৌন সমস্যা
খাদ্যাভ্যাস বা খাদ্যসংক্রান্ত সমস্যা
Self-harm বা সুইসাইডাল এটেম্পট ও সুইসাইডাল চিন্তা
OCD সহ আরও অন্যান্য মানসিক জটিলতা
কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি মূলত আপনাকে সমস্যা গুলো বুঝতে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে এবং মানসিকভাবে সুস্থ হতে সাহায্য করে, যাতে আপনি জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো আরও ভালোভাবে সামলে নিতে পারেন।
সঠিক থেরাপিস্ট কিভাবে খুঁজবেন?
সঠিক থেরাপিস্ট খুঁজে পাওয়া থেরাপির সফলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ থেরাপি আসলে একটি সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে যেখানে আস্থা, মন খুলে কথা বলার সুযোগ এবং নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই থেরাপিস্ট বেছে নেওয়ার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।
প্রথমেই দেখুন থেরাপিস্ট কতটা প্রশিক্ষিত এবং কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। যেমন কেউ হয়তো উদ্বেগ (anxiety) বা ডিপ্রেশন নিয়ে বেশি কাজ করেন, আবার কেউ সম্পর্কের সমস্যা বা ট্রমা নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করেন। আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট বেছে নিতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, খেয়াল করুন থেরাপিস্টের স্টাইল বা ধরণ আপনার সাথে মানানসই কিনা। কেউ হয়তো বেশি গাইড করেন, কেউ আবার আপনাকে বেশি স্পেস দেন নিজের কথা বলার জন্য। কয়েকটি সেশন করার পর যদি মনে হয় এই থেরাপিউটিক সম্পর্কটা আপনার জন্য কার্যকরী নয়, তবে থেরাপিস্ট পরিবর্তন করাও স্বাভাবিক।
তৃতীয়ত, আপনার সুবিধা ও বাস্তবতা মাথায় রাখুন। যেমন থেরাপির জায়গা বা অনলাইন সেশন, সময়ের মিল, খরচ, এসব ঠিকঠাক থাকলে আপনার জন্য নিয়মিত থেরাপিতে অংশ নিতে সুবিধা হবে।
কেন সাইকোথেরাপিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী (Psychologist) বেছে নেবেন?
যেকোনো মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা শুধুমাত্র শোনা বা সাপোর্ট দেয়ার জন্য নয়, বরং মানসিক সমস্যার গুরুত্ব, সমস্যা বুঝতে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান রাখেন। তারা মানুষের আচরণ, চিন্তা এবং আবেগ পরিবর্তনের উপর বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ
একজন মনোবিজ্ঞানী সাধারণত চার বছরের স্নাতক (undergraduate) শিক্ষার পর দুই থেকে সাত বছরের একাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এই ডিগ্রি হতে পারে Master’s, MPhil, PhD। এছাড়া তারা হাসপাতালে বা স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে অথোরিটির তত্ত্বাবধানে ১-২ বছরের ক্লিনিক্যাল ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন যা তাদেরকে আরো অভিজ্ঞ করেন।
এই দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই মনোবিজ্ঞানীদের অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের থেকে আলাদা করা হয়। ফলে একজন মনোবিজ্ঞানী কেবল শুনবেন না, বরং আপনার সমস্যা বোঝা, সঠিক মূল্যায়ন করা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাহায্য করে থাকবেন।
প্রথম কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি সেশনের জন্য কিভাবে প্রস্তুত হবেন?
প্রথম থেরাপি সেশন অনেকের জন্য একটু উদ্বেগজনক লাগতে পারে। মনে হতে পারে সেশনের জন্য নিজে কিভাবে প্রিপারেশন নিব? কিভাবে কথা বলবো? কি বলবো? প্রথম সেশনে কি হবে?
আপনি সম্পূর্ণ রিলাক্স থাকুন, এখানে আপনাকে আলাদে করে কিছু করতে হবেনা, তবে আপনি চাইলে নিম্নের প্রস্তুতি গুলোও নিতে পারেন।
প্রথমে ভাবুন, আপনি কেন থেরাপি নিতে চাচ্ছেন। আপনার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যগুলো ছোট ছোট পয়েন্টে ভেবে বা লিখে নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ:
ডিপ্রেশন বা উদ্বেগ কমানো
সম্পর্কের সমস্যা সমাধান করা
নিজের আবেগ বা চিন্তা বোঝা
এরপর, যদি সম্ভব হয়, থেরাপিস্টের কাছে নিজের পূর্বের কোন প্রবলেম এর প্রেসক্রিপশন নিয়ে যান যা সেশনকে সাহায্য করতে পারে।
প্রস্তুতি মানেই সব কথা বলা নয়। প্রথম সেশনে আপনি শুধু নিজের অনুভূতি, সমস্যার ধরন ও সমস্যার হিস্ট্রি এবং থেরাপি থেকে আপনার প্রত্যাশা শেয়ার করবেন। কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি সেশনে থেরাপিস্ট কোনো সমাধান চাপিয়ে দিবেন না আপনার উপর। থেরাপিস্ট আপনাকে শোনার, বোঝার এবং দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য থাকবেন ।
প্রথম কাউন্সেলিং সেশনে কি হয়?
প্রথম থেরাপি সেশনকে অনেক থেরাপিস্ট “অ্যাসেসমেন্ট” সেশন বলে থাকে, যেখানে থেরাপিস্ট আপনার সমস্যা সম্পর্কে এবং সেগুলো কিভাবে শুরু হলো এবং কেন এখনো আছে; এই বিষয়গুলো বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করবেন।
এই সেশনটি মূলত আপনার এবং থেরাপিস্টের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং থেরাপির লক্ষ্য নির্ধারণ করার উপর বেশি গুরুত্ব দিবে। যেখানে আপনি এবং থেরাপিস্ট একে অপরের সাথে কতটা মানিয়ে নিতে পারছেন সেটা বুঝুতে পারবেন। যদি মনে হয় যে সম্পর্কটা আপনার জন্য কমফোর্টেবল নয়, তাহলে আপনি থেরাপিস্ট পরিবর্তন করতে পারবেন।
প্রথম সেশনে থেরাপিস্ট সাধারণত আপনাকে জানান-
গোপনীয়তা নীতি (confidentiality and privacy)
তিনি যে থেরাপি টেকনিক ফলো করেন সেটা কিভাবে সাহায্য করতে পারে তা সম্পর্কে আপনাকে জানানো
থেরাপি কতদিন চলবে এবং কতটি সেশন হতে পারে
সেশন মিস বা ক্যানসেল করলে কী করতে হবে
সাথে সাথে থেরাপিস্ট আপনাকে সুযোগ দেবেন আপনার কথাও শোনার জন্য, যেমন,
আপনি থেরাপি থেকে কি আশা করেন (therapy goals)
থেরাপি নিয়ে কোনো উদ্বেগ বা প্রশ্ন আছে কিনা
প্রথম সেশন আপনাকে কিছুটা বিচলিত করতে পারে মাঝে মাঝে। এটি স্বাভাবিক। যদি কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হয় বা প্রশ্ন থাকে, যে কোনো সময় থেরাপিস্টকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তারা সবসময় আপনার প্রশ্নের অপেন ও অনেস্ট উত্তর দেবেন।
প্রথম সেশনের পরে কেমন অনুভব করবেন?
প্রথম সেশন শেষে আমি এক ধরনের স্বস্তি পেলাম। অনেকদিন পর মনে হলো কেউ সত্যিই আমার কথা মন দিয়ে শুনল, আমাকে ঠিক ভুল কোনো বিচার না করে। নিজের ভেতরের কষ্ট আর রাগের কথা বলতে পেরে হালকা লাগছে। তবে কিছুটা ক্লান্তিও লাগছে, কারণ অনেকদিন ধরে চেপে রাখা অনুভূতিগুলো একসাথে বেরিয়ে এল। তবুও মনে হচ্ছে হয়তো এভাবেই ধীরে ধীরে ভালো থাকা শুরু হবে।” - প্রথম থেরাপি সেশন শেষের একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতা।
থেরাপি সেশনের পরে আপনি অনেক ধরনের অনুভূতি একসাথে অনুভব করতে পারেন। অনেক সময় আপনি হালকা বা মুক্তি পেয়েছেন বলে মনে করতে পারেন, কারণ আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ অনুভূতিগুলো কারও সাথে শেয়ার করেছেন এবং কেউ সত্যিই শুনেছে ও বুঝেছে আপনাকে। আবার কখনও আপনি শক্তিশালী বা প্রানবন্ত বোধ করতে পারেন, বিশেষ করে যদি সেশনের মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে নতুন কিছু বুঝতে পারেন বা নতুন লক্ষ্য স্থির করতে পারেন।
কিন্তু সব সময় এটা সহজ হয় না। কখনও আপনি ক্লান্ত বা বিরক্ত বা কষ্ট বোধ করতে পারেন, কারণ মানসিকভাবে সেশনটি চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। কখনও হতাশা বা বিরক্তি অনুভব হতে পারে যদি মনে হয় আপনার কথা শোনা হয়নি বা আপনি যা আশা করেছিলেন তা পাননি। এছাড়া, সেশন চলাকালীন পুরোনো কষ্টদায়ক স্মৃতি উঠে এলে আপনি উদ্বিগ্নও বোধ করতে পারেন।
এমন সময়গুলোতে সাহায্য করার কিছু উপায় আছে। যেমন:
আপনি পরবর্তী সেশনে অথবা সেশন শেষে থেরাপিস্টকে আপনার অনুভূতি খোলাখুলি জানাতে পারেন। তারা শুনবেন এবং সাপোর্ট করবেন। এছাড়া আপনি অনুভূতিগুলো নোট বা জার্নাল আকারে লিখে রাখতে পারেন, যা থেরাপিতে এবং ইমোশন কোপ করতে সাহায্য করে।
কাউন্সেলিং সেশনের সবকিছু কি গোপন থাকে?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হ্যাঁ, আপনি থেরাপিস্টকে যা বলবেন তা গোপন রাখা হয়। গোপনীয়তা থেরাপিস্টের সঙ্গে আস্থা গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতি আছে, যেখানে থেরাপিস্টকে দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করতে হলে গোপনীয়তা সীমিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: যদি থেরাপিস্ট মনে করেন যে আপনি বা অন্য কেউ সঙ্কটজনকভাবে আহত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন, তাহলে তারা প্রয়োজনীয় কোনো স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবারের সদস্য বা চিকিৎসকের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে পারেন। তবে তারা এটি করার আগে অবশ্যই আপনাকে জানাবেন
Relaxy থেরাপিস্টের সঙ্গে আপনার বিশেষ যাত্রা শুরু করা
আপনি যদি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা অন্য কোনো আবেগগত সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে চান, Relaxy-এর দক্ষ থেরাপিস্টরা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। Relaxy-তে প্রশিক্ষিত সাইকোথেরাপিস্টরা একটি নিরাপদ এবং গোপনীয় পরিবেশে আপনার সাথে সেশন নিয়ে থাকবেন। তারা জাজমেন্ট না করে, আপনার কথা শুনে এবং বুঝে আপনাকে সাহায্য করবেন। এখানে আপনি আপনার চিন্তা, অনুভূতি এবং সমস্যাগুলো খোলাখুলি শেয়ার করতে পারবেন।
আমাদের সাইকোথেরাপিস্টরা প্রফেশনাল এবং অভিজ্ঞ, যে কারনে তারা আপনাকে আপনার চিন্তা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করবে এবং আপনি কি অনুভব করছেন তা বোঝার চেষ্টা করে আপনাকে সাহায্য করবেন আপনার সমস্যা সমাধানে।
তাহলে আর দেরি কেন! চলেন দেখে নেই কিভাবে শুরু করবেন রিলাক্সি থেকে সেশন নেওয়া:
Relaxy-র ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যান এবং আপনার জন্য সুবিধাজনক থেরাপিস্ট বাছাই করুন।
থেরাপিস্টের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অভিজ্ঞতা দেখে বাছাই করুন।
আপনার সুবিধা অনুযায়ী সেশন টাইম এবং ধরন (ফেস-টু-ফেস, অনলাইন) ঠিক করুন।
প্রথম সেশনে নিজের লক্ষ্য, উদ্বেগ এবং সমস্যা শেয়ার করুন। থেরাপিস্ট আপনাকে বুঝে এবং পরবর্তী ধাপগুলো সাজিয়ে দেবেন।
Relaxy-তে থেরাপি শুরু করা মানে হলো একটি নিরাপদ ও সাপোর্টিভ জার্নি, যেখানে ধীরে ধীরে আপনি আপনার আবেগ, চিন্তা এবং আচরণ বোঝার এবং নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা অর্জন করবেন। এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি শক্তিশালী ও প্রয়োজনীয় প্রথম ধাপ।রিলাক্সি থেকে অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট দের সাথে সেশন বুক করুন এই লিংক থেকে।
Did you find this article helpful?

Saima Islam
Assistant Clinical Psychologist
Warm and empathetic psychologist specializing in CBT and DBT for depression, anxiety, trauma, and relationship challenges