সব কথায় রাগ? বাড়িতে যেন কিছুই বোঝে না কেউ? বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্বের কারণ ও সমাধান
পরিবারে থেকেও যদি মনে হয় কেউ আপনাকে বোঝে না, তাহলে আপনি একা নন। এই লেখায় জানুন কেন এমন অনুভূতি হয় এবং কীভাবে তা মোকাবিলা করা যায়।
Mahbub Ul Asem
Psychologist

পরিবার মানেই ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর নির্ভরতা—আমরা এমনটাই শুনে বড় হয়েছি।
কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই পরিবারেই যদি সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ তৈরি হয়, তখন সম্পর্কের ভিত্তি কাঁপতে শুরু করে।
বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোটখাটো কথায় ভুল বোঝাবুঝি, কথায় কথায় তর্ক, কথা না বলেই দিনের পর দিন কেটে যাওয়া—এগুলো খুব পরিচিত ছবি এখনকার অনেক পরিবারে।
এই ব্লগে আমরা বুঝে নেবো কেন বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হয়ে যায়, এর পেছনের মানসিক ও প্রজন্মগত কারণ কী, এবং কীভাবে সেই দূরত্ব ধীরে ধীরে ঘুচিয়ে বোঝাপড়ার একটা নতুন পথ তৈরি করা যায়।
পরিবারে দূরত্ব—এর পেছনে কী আছে?
বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এগুলো প্রায়শই স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না, কিন্তু ধীরে ধীরে জমে ওঠে।
১. প্রজন্মগত ব্যবধান (Generation Gap)
বাবা-মায়ের জীবনের বাস্তবতা, সামাজিক কাঠামো, ও মূল্যবোধ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। আপনি যে বিষয়টিকে স্বাধীনতা ভাবেন, তারা সেটাকে “উদ্ধত্য” মনে করতে পারেন।
২. যোগাযোগের ঘাটতি
অনেক সময়েই আমরা খোলামেলা কথা বলি না। নিজেদের কষ্ট, রাগ বা দুঃখ বাবা-মায়ের সামনে প্রকাশ করতে লজ্জা বা ভয় পাই। ফলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
৩. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ
কিছু বাবা-মা সন্তানের প্রতিটি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন। এতে সন্তান নিজেকে বন্দি অনুভব করে এবং একসময় দূরে সরে যায়।
৪. স্বীকৃতির অভাব
“তুমি তো ভালো করেছোই” এই কথাটা শোনার আশায় বড় হওয়া সন্তানেরা যদি সবকিছু করেও স্বীকৃতি না পায়, তাহলে তীব্র মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।
৫. পুরনো ক্ষোভ বা অসমাপ্ত কথা
অনেক সময় পরিবারে ঘটে যাওয়া কোনো পুরনো ঘটনা বা অপূর্ণ আলোচনা থেকেই সম্পর্কের তিক্ততা তৈরি হয়।
আপনি একা নন
আপনার মনে যদি কখনও হয়, “আমার বাবা-মা বুঝতেই চায় না,” অথবা “আমি কীভাবে নিজের কথা বলবো?”—তাহলে জেনে রাখুন, এই লড়াইটা অনেকের।
তবে এটাই শেষ নয়। আপনি চাইলে সম্পর্কের ধরন বদলাতে পারেন—না রেগে, না দূরে সরে গিয়ে, বরং বোঝার জায়গা তৈরি করে।
কীভাবে ঘুচবে এই দূরত্ব?
১. খোলামেলা ও শান্তভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন
আপনার অনুভূতির কথা বলুন—রাগ করে নয়, স্পষ্টভাবে। “তুমি কিছুই বোঝো না” বলার বদলে বলুন, “যখন তুমি এটা বলো, আমি কষ্ট পাই।”
২. তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করুন
তারা হয়তো ভুল বলছেন, কিন্তু সেটা কেন ভাবছেন, সেটার পেছনের বাস্তবতা জানলে আপনি কম বিরক্ত হবেন।
৩. প্রত্যাশা কমান, সহানুভূতি বাড়ান
সব সময় সব কিছু যেমন আপনি চান, তেমন হবে না। কিছু ব্যাপারে বোঝাপড়া না-ও হতে পারে—তবু সম্পর্কটা টিকে থাকতে পারে।
৪. নিজেদের সীমা নির্ধারণ করুন
যদি নিয়ন্ত্রণ অতিরিক্ত হয় বা কথা শুনেই মন খারাপ হয়, তবে boundary তৈরি করুন। নিজের মানসিক শান্তিকে সবার আগে রাখুন।
৫. পেশাদার কাউন্সেলিং নিন
পারিবারিক থেরাপি শুধু সমস্যার সমাধান নয়—এটি বোঝাপড়ার, মাফ করার ও নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ার একটা সুযোগ। অনেক সময় পরিবারের কেউ কাউন্সেলিংয়ে অংশ না নিলেও আপনি নিজে নিলে তাতেও উপকার হয়।
Relaxy কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
- বাবা-মা ও সন্তানের বোঝাপড়া তৈরিতে বিশেষ ফ্যামিলি থেরাপি সেশন
- বাংলা ভাষায় গাইডেড সেলফ-কেয়ার টুলস ও ইমোশন ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট
- অভিজ্ঞ, সার্টিফায়েড থেরাপিস্টের মাধ্যমে প্রাইভেট কাউন্সেলিং
- আপনার সময় ও অবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়া নমনীয় সেবা
👉 এখনই রিল্যাক্সি অ্যাপ ডাউনলোড করুন
👉 আপনার প্রিয়জনের পাশে থাকুন এবং কাউন্সেলিং নিতে তাদের উদ্বুদ্ধ করুন।
আপনি যদি প্রস্তুত হন, Relaxy আপনার পাশে থাকবে।
পরিবারে ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
কিন্তু সেই ভালোবাসা যদি সহানুভূতি, বোঝাপড়া আর খোলামেলা কথার মাধ্যমে প্রকাশ পায়—তবে সেই দূরত্ব আবার মুছে ফেলা সম্ভব।আপনার সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে বলে ভেবে হাল ছেড়ে দেবেন না।
শুরু হোক বোঝাপড়ার নতুন এক অধ্যায়—আপনার পরিবারেই।
Did you find this article helpful?
Mahbub Ul Asem
Psychologist
Expert in mental health and wellness, dedicated to helping individuals achieve better mental well-being through evidence-based practices and compassionate care.