অনুশোচনা আপনাকে সবার থেকে পিছনে ফেলে দিচ্ছে না তো?
অতীতের ভুল নিয়ে অনুতপ্ত? রিগ্রেট ছেড়ে দিন এবং এগিয়ে যান। ভুল থেকে শিক্ষা নিন, নিজের প্রতি বিচারক হবেন না, নিজেকে ক্ষমা করুন। মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশনের মাধ্যমে বর্তমানে ফিরে আসুন।

Farah Tabassum Shamma
Assistant Clinical Psychologist & M.Phil Researcher

Key Takeaways :
অনুশোচনা আমাদের জীবনকে নানা ভাবে কঠিন করে তোলে। এর প্রভাব শুধুমাত্র মনেই নয়, আমাদের জীবনের প্রতি টি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়। আমরা তখন অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পরি এবং ভাবি যে আমরা যদি ঘটে যাওয়া কাজটি না করতাম তাহলে আমার সাথে এমনটি হতো না। এই অনুশোচনার বেড়াজাল থেকে বের হতে আমরা নিজেরা নিজের মতো করে অনেক কিছু করে থাকি যেমনঃ সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল, নিজেকে সরিয়ে রাখা, জাজমেন্টাল হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি। যেগুলো আমাদের সাময়িক শান্তি দিলে এই অনুশোচনার সাইকেল থেকে বের হতে দেয় না; কিন্তু আমরা যদি চাই এই সাইকেল থেকে বের হতে তাহলে আমরা সহজ কিছু বিষয়ে কাজ করে এর থেকে দ্রুত বের হয়য়ে আসতে পারি। যেমনঃ নন-জাজমেন্টাল হওয়া, নিজের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়া, মনোযোগী বা মাইন্ডফুল হওয়া।
অনুশোচনা আমাদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
আমরা প্রায় সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অতীতের ভুল কাজ বা সিদ্ধান্ত নিয়ে ভীষণভাবে অনুতপ্ত হই। ধরুন, কোনো পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল আসেনি। তখন বারবার মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে,
“পরীক্ষার দুই দিন আগে সারাদিন ফেসবুকে বসে থাকা ঠিক হয়নি”,
“নেটফ্লিক্সে একটার পর একটা সিরিজ না দেখলেও পারতাম।”
এই ভাবনাগুলো ধীরে ধীরে আমাদের একটা ভয়ংকর রিগ্রেট সাইকেলে আটকে ফেলে। ফলাফল হিসেবে আসে কাজে অনীহা, হতাশা, এমনকি ডিপ্রেশনও। এই অবস্থায় কিছু বিষয় একটু ভেবে দেখা দরকার। যেমনঃ
এই অভিজ্ঞতা থেকে আপনি কী শিখলেন?
যখন আমরা নিজের ভুল নিয়ে অতিরিক্ত রিগ্রেট করি, তখন আসলে সেই ভুল থেকে শেখার সুযোগটাই হারিয়ে ফেলি।
উপরের উদাহরণে একটু মনোযোগ দিয়ে ভাবুন, পরীক্ষার আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় নষ্ট হওয়ার কারণটা কী ছিল? হতে পারে, পড়ার চাপ থেকে একটু নিজেকে ডাইভার্ট করতে আপনি ১০ মিনিটের ব্রেক নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে কখন ১ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, খেয়ালই করেননি। এরপর হয়তো কোনো বন্ধুর কাছ থেকে বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুভির রিভিউ পেয়ে নেটফ্লিক্সে ঢুকে পড়লেন।এখান থেকে কী শেখা যায়?
হয়তো এই উপলব্ধি যে, short-term stress relief হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া খুব একটা ভালো অপশন না।অথবা, নিজের সময়ের প্রতি mindful আর intentional হলে অযাচিত সময় নষ্ট হওয়া অনেকটাই কমে। একটা “ভুল” থেকেই দেখুন, কত সুন্দর life lesson পাওয়া যায়। পরের বার হয়তো আপনি এই ভুলটাই আর করবেন না। ভেবে দেখুন, শুধুই রিগ্রেট করলে কি এই লার্নিং গুলো পাওয়া যেত?আপনি কি নিজের প্রতি খুব বেশি judgemental হয়ে যাচ্ছেন?
মানুষ প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলায়, grow করে। অতীতের আপনি আর বর্তমানের আপনি অনেকটাই আলাদা।
যে স্টেপ টার জন্য আপনি আজ নিজেকে দোষ দিচ্ছেন, তখনকার আপনি হয়তো সেই পরিস্থিতিতে নিজের মতো করেই best দিতে পেরেছিলেন, হয়তো পারেন নি কিন্তু পরবর্তী একই রকম পরিস্থিতি মোকাবেলার স্ট্রাটেজি আপনি এই পাস্ট এক্সপেরিয়েন্স থেকেই বের করে ফেলতে পারবেন।নিজেকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো মানে নিজেকেই নিজের বিপক্ষে দাঁড় করানো। একটু পজ নিন, নিজের প্রতি আরো কিছুটা সহজ হওয়ার চেষ্টা করুননিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন
যত দ্রুত আপনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন, তত দ্রুতই রিগ্রেটের এই বাবল থেকে বের হতে পারবে্ন। আর তত দ্রুত আপনি সামনে এগোতে পারবেন। ভাবুন, একটি পরীক্ষায় প্রস্তুতি ভালো হয়নি। এখন সেটা নিয়ে বারবার আফসোস করলে সেই পরীক্ষা তো আর ফিরে আসবে না, বরং পরের পরীক্ষার প্রস্তুতিতেই সমস্যা তৈরি হবে। জীবনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই, ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল কাজের জন্য অনুশোচনার সময় যত কম হবে, আর শেখার অংশটা যত দ্রুত হবে, এগোনোটাও তত সহজ হবে।
Time management না, attention management
অনেক সময় আমরা ভাবি সমস্যা সময়ের, কিন্তু আসলে সমস্যা মনোযোগের। “Time management”-এর চেয়েও “attention management” অনেক বেশি জরুরি। আপনার মনোযোগ কোথায় যাচ্ছে, সেটা খেয়াল করুন।
অতীতের কোনো ভুল যদি আপনার বর্তমান কাজকে বারবার বাধা দেয়, তাহলে আপনি আসলে এখনও অতীতেই আটকে আছেন। আপনার মনোযোগ এখনো সেখানেই।“অতীতে বাস করা”-র এই বাবল থেকে ফিরে আসার জন্য mindful meditation বা সহজ কিছু grounding practice খুব সাহায্য করতে পারে। ধীরে ধীরে বর্তমান মুহূর্তে ফিরে আসাই সামনে এগোনোর প্রথম ধাপ। এই লেখাটা পড়ার পর এক মিনিট সময় নিন। কোথাও লিখতে পারলে ভালো, না পারলে মনেই ভাবুনঃ
- সাম্প্রতিক কোন কাজটা নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি রিগ্রেট করছি?
- এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি আসলে কী শিখেছি?
- যদি আমার কোনো কাছের মানুষ এই কাজটা করতো, আমি তাকে কী বলতাম?
এখন সেই কথাগুলোই নিজেকে বলুন।
রিল্যাক্সি: আপনার পাশে সবসময়
আমাদের এক্সপার্ট সাইকোলজিস্টরা আপনাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। আপনার মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এখনই রিল্যাক্সি অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং সেশন বুক করুন।
Did you find this article helpful?

Farah Tabassum Shamma
Assistant Clinical Psychologist & M.Phil Researcher
Farah Tabassum Shamma is a certified clinical psychologist with 6+ years of experience helping children, adolescents, young adults and geriatric individuals navigate life challenges and mental crisis. She specializes in evidence-based psychotherapy with warmth and cultural sensitivity.