কাউন্সেলিং না ওষুধ ?মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে কোনটা আপনার জন্য সঠিক?
Counseling vs. medication, which is better suited for your mental health care depends entirely on the nature and severity of the issue. This blog highlights the differences, effectiveness, and how to choose the right treatment path for yourself

Saima Islam
Assistant Clinical Psychologist

মূল কথা (Key Takeaways)
কাউন্সেলিং এবং ওষুধ দুটোরই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, তবে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে তা নির্ভর করে আপনার উপসর্গের ধরন, তীব্রতা এবং দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাবের ওপর। হালকা থেকে মাঝারি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা বা আবেগগত সমস্যায় কাউন্সেলিং আপনাকে নিজের অনুভূতি বুঝতে, নেতিবাচক চিন্তা চিহ্নিত করতে এবং স্বাস্থ্যকর coping skills গড়ে তুলতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, যদি উপসর্গ খুব তীব্র হয় যেমন আত্মহত্যার চিন্তা, ঘুম-খাওয়ার মারাত্মক সমস্যা, অতিরিক্ত কান্না বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া তাহলে ওষুধ দ্রুত মানসিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং ও ওষুধ একসাথে নিলে সবচেয়ে ভালো ও দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া যায়। তাই নিজে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় থাকলে একজন সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে কথা বলে আপনার জন্য সঠিক পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
কাউন্সেলিং না ওষুধ ?মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে কোনটা আপনার জন্য সঠিক?
আমাদের এই ব্যস্ত আর অনিশ্চিত জীবনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, কিংবা ডিপ্রেশন অনেকেরই প্রায় নিত্যসঙ্গী হয়ে গিয়েছে। প্রতিনিয়ত যেন নিজের আবেগ-অনুভূতির সাথেই নিজেই এক যুদ্ধ করে চলছি। কিন্তু প্রতিনিয়ত এই যুদ্ধ করতে করতে যখন আমরা ক্লান্ত হয়ে পরি, যখন মনে হয় “আমি আর পারছি না,” এখন অন্তত আমার প্রফেশনাল হেল্প দরকার; তখন আবার আমরা আরেক দ্বিধায় পড়ে যাই,
“আমি কি কাউন্সেলিং শুরু করব, নাকি আমার ওষুধ খাওয়া দরকার, কোনটা ঠিক হবে আমার জন্য?”এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। কারণ এটি সত্যিই জটিল। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক শরীরের মতোই ব্যক্তিগত। কাউন্সেলিং ও ওষুধ দুটিরই নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু অবস্থায় কাউন্সেলিং ভালো কাজ করে, আবার কিছু সমস্যার জন্য ওষুধ দ্রুত কার্যকর হয়।যা একজনের ক্ষেত্রে কাজ করে, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা নাও করতে পারে।তবুও গবেষণা ও অভিজ্ঞতা আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। আজ আমরা এই লেখাটিতে আলোচনা করবো কাউন্সেলিং এবং মেডিসিন নিয়ে; যেন আমরা সহজে নিজের ডিসিশন নিতে পারি এবং আরো ভালো করে বিষয় গুলো বুঝতে পারি যে কোনটা আমার জন্য বেশি জরুরি বা উপকারী হবে।
প্রথমেই একটু জেনে নেই কাউন্সেলিং এবং মেডিসিন কিভাবে কাজ করে।
কাউন্সেলিং : নিজেকে আবিষ্কার করা
ভাবুন, আপনি একটি ঘরে বন্দি আছেন, জানালা বন্ধ, আলো-বাতাস ঢুকছে না। আলো না থাকায় ঘরের ভেতরটা যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন না পরিষ্কার করে; তেমন আবার আপনি জানেন ও না বন্ধ জানালার বাইরেটা কেমন দেখতে । যখন আমাদের জীবনে বিভিন্ন ঘটনা আমাদের কে এরকম শোচনীয় অবস্থায় ফেলে যায় তখন কাউন্সিলিং প্রয়োজন হয়।
কাউন্সেলিং হলো সেই প্রসেস যেখানে ওই বন্ধ জানালাটা ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হয়; যেন আপনি আলো দেখতে পারেন, নিজের ভিতর ও বাইরেটা দেখে, জীবনের জটগুলো খুলে ফেলতে পারেন।কাউন্সেলিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী আপনাকে আপনার মানসিক ও আবেগগত সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করেন। এটি কেবল সমস্যা সমাধান নয়, বরং আপনাকে হেলদি লাইফস্টাইল, পজেটিভ থিংকিং এবং মানসিক সুস্থতা অর্জনে সাহায্য করে।
কাউন্সেলিং এ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেমন: কগনিটিভ-বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) যা আপনার চিন্তা ও আচরনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে আপনাকে আপনার দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে দক্ষ করে তুলবে। সাইকোলজিস্ট আপনাকে কোন রকম জাজমেন্ট না করে আপনার কথা শুনবেন, প্রশ্ন করবেন এবং আপনার চিন্তাভাবনা ও আচরণ বোঝার ও পরিবর্তন করার মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করবেন । কাউন্সেলিং শুধু সমস্যার উপশম নয়; এটি নিজেকে জানার এক প্রক্রিয়া, যা আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, এবং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। কাউন্সেলিং দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনে, কিন্তু সময় লাগে।
কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি সম্পর্কে জানতে পড়তে পারেন এই লেখাটি (ব্লগ আপলোড হলে এখানে লিংক এড করে দিব)
মেডিসিনঃ মস্তিষ্কের দ্রুত সস্তি
সবসময় শুধু কাউন্সেলিং যথেষ্ট হয় না বা মেডিসিনের প্রয়োজনীয়তাই বেশি হয়। কখনও কখনও মানসিক অবস্থার ভারসাম্য এতটাই নষ্ট হয়ে যায় যে, ওষুধের সাহায্য ছাড়া মস্তিষ্ক আবার স্থির হতে পারে না। যেমন ধরুন-
যদি কেউ তীব্র ডিপ্রেশনে থাকে, এমন অবস্থা যে বিছানা থেকেই উঠতে পারছে না, ঘুম আসছে না রাতের পর রাত, আত্মহত্যার চিন্তা আসে বারবার এইরকম ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং সেশন নিতে যাওয়াও যার পক্ষে অসম্ভব হয়ে যায়। তখন দেরি না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের বা সাইকিয়াট্রিস্ট এর পরামর্শ নেওয়া জরুরি যিনি প্রাথমিক পর্যায়ে মেডিসিন প্রেসক্রাইব করবেন দ্রুত সুস্থতার জন্য।কারণ, বিষণ্নতা বা উদ্বেগের সময় মস্তিষ্কে সেরোটোনিন, ডোপামিন, নরএপিনেফ্রিন নামের কিছু কেমিক্যাল এর ব্যালান্স নষ্ট হয়ে যায়। এই রাসায়নিক পদার্থ গুলোই আমাদের মুড, ঘুম, শক্তি ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
সাইকিয়াট্রিস্ট সাধারণত এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ দেন। ফলে মন ধীরে ধীরে ভালো লাগে,নিজেকে ফ্রেস লাগে, ঘুম নিয়মিত হয়, এবং দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং কাউন্সেলিং সেশন নেওয়ার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলে।
ওষুধের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি দ্রুত প্রবলেমেটিক সিম্পটমস থেকে আরাম দেয়। তবে মনে রাখা জরুরি যে, ওষুধ একমাত্র সমাধান নয় এটি দ্রুত উপসর্গ কমায়, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে এবং সমস্যার মূল জায়গায় পৌঁছায় না।
এটি মূলত এমন একটি ধাপ, যা আপনাকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল করে তোলে, যাতে আপনি পরে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে নিজের চিন্তা ও অনুভূতি নিয়ে কাজ করতে পারেন।
এখন চলুন কিছু গবেষণার ফলাফল দেখে নেই যা আমাদের কনফিউশন দূর করতে আরও সহায়তা করবে।
গবেষণায় যা দেখা গেছে: কাউন্সেলিং ও ওষুধ একসাথে সবচেয়ে কার্যকর
“ওষুধ নাকি কাউন্সেলিং ?”
এই প্রশ্নটি অনেক দিন ধরেই মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কেউ মনে করেন, শুধুমাত্র ওষুধই যথেষ্ট আবার কেউ কেউ বলেন, কাউন্সেলিং ই সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক তথ্য অন্য কথা বলছে।
একটি বড় বিশ্লেষণমূলক গবেষণা (meta-analysis) করা হয়, যেখানে ২৫টি ভিন্ন গবেষণার ফলাফল একসাথে করে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয় বিখ্যাত জার্নাল JAMA Psychiatry (২০১৯)-এ।
গবেষণার ফলাফলে পাওয়া যায়,
যখন ওষুধের সঙ্গে কাউন্সেলিং যোগ করা হয়, তখন রোগীরা শুধু ওষুধ নেওয়া রোগীদের তুলনায় অনেক বেশি ইম্প্রুভমেন্ট করেন। তারা দ্রুত সুস্থতা লাভ করেন এবং তাদের দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং মেন্টাল স্টেবিলিটি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা কাউন্সেলিং ও ওষুধ একসাথে নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন বা অন্যান্য মানসিক জটিলতা পুনরায় ফিরে আসার (relapse) ঝুঁকি অনেক কম দেখা গেছে।
অর্থাৎ, শুধু সমস্যা গুলো কমানো নয়, বরং মানসিক ভাবে ভালোথাকা কে দীর্ঘস্থায়ী করতেও এই সমন্বিত চিকিৎসা বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
এই ফলাফল আরও প্রমাণ করে যে কাউন্সেলিং ও ওষুধ একে অপরের বিকল্প নয় ; বরং একসাথে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও ওষুধ নিলে জটিলতা গুলো দ্রুত নিরাময় করা যায়।
রিয়ার গল্প: সুস্থতার পথে এক বাস্তব অভিজ্ঞতা
রিয়া (ছদ্মনাম), ২৬ বছর বয়সী একজন তরুণী, কয়েক মাস ধরে তার সবসময় মন খারাপ, ক্লান্তি, এবং কাজের প্রতি আগ্রহহীনতায় ভুগছিলেন। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সময় যত গড়ায়, ততই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিলেন। ইনাক্টিভিটির কারনে তার একটি সেমিস্টার পর্যন্ত গ্যাপ গিয়েছে। নিজের জীবনটাকে তার অর্থহীন মনে হতে লাগলো। নিজের দৈনন্দিন কাজগুলো পর্যন্ত সে করার কোন শক্তিই পেত না। আত্মহত্যার চিন্তা প্রায়ই আসতে শুরু করলো।
একদিন তার এক বন্ধু তাকে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে মানসিক রোগ বিভাগে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সাইক্রিয়াট্রিস্ট তার সমস্যার তীব্রতা বুঝে প্রয়োজনীয় মেডিসিন দেন এবং কাউন্সেলিং নিতে রেফার করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এক সপ্তাহ তিনি ওষুধ খান এবং পরবর্তীতে তিনি একজন সাইকোলজিস্ট এর কাছে যান যেখানে নিয়মিত কাউন্সেলিং নেওয়া শুরু করে এবং সমস্যা নিয়ে বসে না থেকে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোতে থাকেন।
কাউন্সেলিংএ তিনি শিখেছেন নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলো চেনা, এবং কীভাবে নেগেটিভ চিন্তা ধীরে ধীরে পরিবর্তন করা যায়। একইসঙ্গে, চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ শুরু করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার ঘুম ঠিক হয়, মনোযোগ ফিরে আসে, এবং কাউন্সেলিংএর ফল আরও ভালোভাবে আসতে শুরু করে।
ওষুধ তাকে স্টেবল করেছে এবং কাউন্সেলিং তাকে গভীরভাবে সাহায্য করেছে তার সমস্যা গুলো বুঝতে এবং সমাধান করতে।প্রতিটি মানুষের মানসিক অবস্থা, উপসর্গ, জীবনযাপন ও মানসিক সহনশীলতা আলাদা। তাই চিকিৎসার ধরনও আলাদা হতে পারে।
তাহলে আপনি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন?
আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ, উদ্বেগ, চাপ বা স্ট্রেস অনুভব করছেন, তবে প্রথমে বোঝা জরুরি আপনার সমস্যা কতটা জটিল বা গুরুতর এবং কোন চিকিৎসা আপনার জন্য উপযুক্ত।
যদি সমস্যা গুলো কম থেকে মাঝারি গুরুতর হয় যেমন;
মন খারাপ বা একাকিত্ব
দৈনন্দিন চাপ বা স্ট্রেস
হতাশা বা উদ্বেগতাহলে কাউন্সেলিং দিয়ে শুরু করা ভালো।
কাউন্সেলিং এর সুবিধা:
নিজের অনুভূতি বোঝা: কাউন্সেলিং সেশনগুলোতে আপনি নিজেকে বোঝার সুযোগ পান। কেন মন খারাপ হচ্ছে বা কোন পরিস্থিতি এনজাইটি বাড়াচ্ছে তা খুঁজে বের করা সহজ হয়।
কৌশল শেখা (Coping Skills): সাইকোলজিস্ট আপনাকে চাপ সামলানোর কার্যকর উপায়, মানসিক শান্তি পেতে ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন কৌশল শেখান।
নেতিবাচক চিন্তা চিহ্নিত ও পরিবর্তন: আপনি যখন বুঝতে পারবেন কোন চিন্তাধারা আপনার মানসিক অবস্থা খারাপ করছে, তখন তা ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে শিখবেন কাউন্সেলিং সেবায়।
বাস্তব উদাহরণ:রিমা প্রতিদিন ১০ মিনিট মেডিটেশন করতেন এবং প্রতি সপ্তাহে একবার কাউন্সেলিং তে যেতেন। সেশনের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারলেন কোন পরিস্থিতিতে তার মানসিক চাপ বাড়ে, কীভাবে শান্ত থাকা যায়, এবং নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো সম্ভব। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার দিনগুলি আগের চেয়ে অনেক শান্তিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত মনে হতে শুরু করল।
সুতরাং তীব্র সমস্যা না থাকলে কাউন্সেলিং নিজেকে বোঝার এবং মানসিক সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য আদর্শ।
যদি সমস্যাগুলো গুরুতর বা তীব্র হয়, যেমন:
আত্মহত্যা চিন্তা
ক্রমাগত হতাশা
অতিরিক্ত কান্না বা দুশ্চিন্তা
খাওয়া-ঘুমের সমস্যার ফলে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া
তখন ওষুধের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কেমিক্যাল ব্যালেন্স ফিরানো জরুরি।
ওষুধের কাজ:
কেমিক্যাল ব্যালান্স ঠিক রাখা: বিষণ্নতা বা উদ্বেগের সময় আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন, ডোপামিন বা নরএপিনেফ্রিন-এর মতো রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এই অবস্থায় অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ এই ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করে, ফলে মুড কিছুটা ভালো হয়, মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং ঘুমের সমস্যা দূর হয়।
দ্রুত উপসর্গ স্বাভাবিক করা: যখন উপসর্গ খুব তীব্র থাকে, তখন ওষুধ প্রথমে দ্রুত আরাম দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ওষুধের ফলে আতঙ্ক বা অতিরিক্ত উদ্বেগ কমে যায়, যা কাউন্সেলিং কে আরও মনোযোগ সহকারে অংশগ্রহণ করতে সাহায্য করে।
কাউন্সেলিং এর জন্য মানসিক প্রস্তুতি: অনেক সময় সমস্যাগুলো গুরুতর থাকলে কাউন্সেলিং কার্যকরভাবে নেওয়া কঠিন হয়। ওষুধ এই গুরুত্বর অবস্থা কমিয়ে কাউন্সেলিং এর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।
উদাহরণ: রাজীব খুব চাপ এবং আতঙ্কে ভুগছিলেন। কাউন্সেলিং শুরু করার আগেই তার ডাক্তার তাকে মেডিসিন প্রেসক্রাইব করেছিলেন। দুই সপ্তাহের মধ্যেই তার ঘুম ও মনোবল অনেকটা স্থিতিশীল হয়। এরপর কাউন্সেলিং এ অংশ নিয়ে তিনি শিখলেন তার নেতিবাচক চিন্তাভাবনা কিভাবে চ্যালেঞ্জ করতে হবে।সুতরাং গুরুতর উপসর্গ থাকলে ওষুধ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ, যা কাউন্সেলি এর ফল আরও ভালো করতে সাহায্য করে।
আর যদি বারবার ডিপ্রেশনে ফিরে যান
তাহলে ওষুধ ও কাউন্সেলিং এর সমন্বিত চিকিৎসাই হবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
কখনও কখনও হালকা বা মাঝারি উপসর্গ কাউন্সেলিং বা ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু যদি উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বারবার ফিরে আসে, তখন কাউন্সেলিং এবং ওষুধের সংমিশ্রণ সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হয়ে দাঁড়ায়।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কী ভাববেন
চিকিৎসার ধরন বেছে নেওয়ার আগে নিজের পরিস্থিতি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ:
- আপনার মানসিক সমস্যা কী?
হতাশা, উদ্বেগ, PTSD, বা ঘুমের সমস্যা; কোন উপসর্গ সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে?
- উপসর্গ কতটা গুরুতর?
হালকা, মাঝারি নাকি তীব্র?দৈনন্দিন কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি? আতঙ্ক, আত্মহত্যার ভাবনা, বা হ্যালুসিনেশন আছে কি? যদি হ্যাঁ, তবে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের জন্য।
- তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন কি?
যদি অবস্থা সংকটজনক (crisis) হয়, ওষুধ প্রথমে শুরু করা হয় যাতে কাউন্সেলিং এ অংশ নেওয়া সহজ হয়।
- আগের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
কাউন্সেলিং বা ওষুধে আগে ভালো হওয়া বা কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে কি? - সুবিধা ও সহজলভ্যতা
আপনার এলাকায় সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলিং সেবা কি হাতের নাগালে পাওয়া যায়? ওষুধ সহজে পাওয়া যায় কি? খরচের দিক থেকে কোনটি বেশি বাস্তবসম্মত? - ট্রমা বা অতীতের কষ্ট
সমস্যার মূল কারণ অতীতের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা হতে পারে? অন্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যা
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, বাইপোলার, OCD এসব থাকলে সমন্বিত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: চিকিৎসা শুরু করার আগে বুঝে নিন এটি কেমন প্রক্রিয়া। দ্রুত ফলের প্রত্যাশায় কাউন্সেলিং বা ওষুধ বন্ধ করে দিলে পুনরায় উপসর্গ ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসা শুরু করার আগে উল্লেখিত বিষয় গুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করে সিদ্ধান্ত নিন।
Relaxy এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আপনার বিশেষ জার্নি শুরু করা
আপনি যদি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা অন্য কোনো আবেগগত সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে চান, Relaxy-এর দক্ষ সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্ট আপনাকে সাহায্য করতে পারে। তাহলে আর দেরি কেন! চলেন দেখে নেই কিভাবে শুরু করবেন রিলাক্সি থেকে সেশন নেওয়া:
Relaxy-র ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যান এবং আপনার জন্য সুবিধাজনক বিশেষজ্ঞ কে বাছাই করুন।
আপনার সুবিধা অনুযায়ী সেশন টাইম এবং ধরন (ফেস-টু-ফেস, অনলাইন) ঠিক করুন।
প্রথম সেশনে নিজের লক্ষ্য, উদ্বেগ এবং সমস্যা শেয়ার করুন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আপনাকে বুঝে এবং পরবর্তী ধাপগুলো সাজিয়ে দেবেন।
Relaxy- এর সাথে কাউন্সেলিং তে ধীরে ধীরে আপনি আপনার আবেগ, চিন্তা এবং আচরণ বোঝার এবং নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা অর্জন করবেন। রিলাক্সি থেকে অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট এবং সাইকিয়াট্রিস্ট এর সাথে সেশন বুক করুন এই লিংক থেকে।
Did you find this article helpful?

Saima Islam
Assistant Clinical Psychologist
Warm and empathetic psychologist specializing in CBT and DBT for depression, anxiety, trauma, and relationship challenges