Home/Blogs/কাউন্সেলিং নেওয়ার ৭টি কারণ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে
Wellness
0 views

কাউন্সেলিং নেওয়ার ৭টি কারণ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে

From improving mental well-being and relationships to boosting self-confidence and stress management: This blog highlights 7 essential reasons why counseling or psychotherapy can transform your life and foster personal growth.

Saima Islam

Saima Islam

Assistant Clinical Psychologist

Rating4.95
2+ years exp.
কাউন্সেলিং নেওয়ার ৭টি কারণ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে

Key Takeaways

কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি শুধু মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসা নয়, বরং নিজেকে বোঝা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, সম্পর্ক উন্নত করা এবং জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায়। দুশ্চিন্তা, রাগ, মানসিক চাপ, সম্পর্কের দূরত্ব, ক্যারিয়ার নিয়ে দ্বিধা, শিশুদের আচরণগত সমস্যা বা ঘুমের জটিলতা এসব ক্ষেত্রেই কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি মানুষকে নিজের ভেতরের অমীমাংসিত কষ্ট, নেতিবাচক চিন্তা এবং আচরণগত প্যাটার্ন চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর coping skills গড়ে তোলে। কাউন্সেলিং নেওয়া দুর্বলতার নয়, বরং আত্মসচেতনতা, সাহস এবং নিজের মানসিক সুস্থতার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার পরিচয়। সঠিক ও প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্টের সহায়তায় কাউন্সেলিং একজন মানুষের জীবন, সম্পর্ক এবং আত্মবিশ্বাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

  • কাউন্সেলিং নেওয়ার ৭টি কারণ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে 

    • আবির একজন তরুণ পেশাজীবী। চারপাশের সবাই ভাবে সে সফল কারন তার আছে ভালো চাকরি, ভালো আয়, সুন্দর জীবন। কিন্তু মনের ভেতরে ভেতরে আবির অনুভব করছে এক অদ্ভুত চাপ। রাতে ঘুম আসে না, পছন্দের কাজ গুলো করতে আর আগের মতোন ভালো লাগছেনা, ছোটখাটো বিষয়েও রেগে যাচ্ছে, পরিবার-বন্ধুদের সাথে সম্পর্কগুলোও ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠছে; ক্রমশ যেন দূরে সরে যাচ্ছে আবির। তার কাছে এই একা থাকাটাই ভালো লাগছে। আবির বুঝতে পারছে কিছু একটা ঠিক নেই, তার কাছে সে যেন এক যন্ত্র মানব হয়ে উঠছে। ইদানিং তো অনেকে তাকে অনুভূতিহীন রোবট ও ডেকে ফেলে। 

    • আবির ভাবছিল তার এই পরিবর্তন গুলো নিয়ে কারও সাথে কথা বলার কথা। অনেক মাধ্যমে তার থেরাপি নেওয়ার কথাও চিন্তায় এলো। কিন্তু কোথায় যেন আবার আটকে যাচ্ছিল আবির। প্রথমে লজ্জা লাগছিল তার, ভাবছিল “থেরাপি কি আমার জন্য? আমি কি তাহলে মানসিকভাবে দুর্বল? আমাকে কি সবাই পাগল ভাববে যদি আমি থেরাপি নেই? আমি কি তাহলে লুকিয়ে রাখবো আমার এই কাউন্সেলিং থেরাপি নেওয়ার কথা?” 

    • কি? আবিরের সাথে অনেক চিন্তাই কি মিলে যাচ্ছে? তাহলে আপনি একা নন। এই চিন্তাগুলো প্রায় প্রত্যেককেই তারা করে বেড়ায় তার জীবনে যখন সে তার জীবনের সমস্যা গুলো নিয়ে কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি নেওয়ার কথা ভাবে। কিন্তু যদি আমরা একটা সফল জীবন চাই, জীবন্টাকে আরও সহজ ও আনন্দময় করতে চাই, জীবনের ক্রমাগত আসতে থাকা সমস্যা গুলোর ঝড় কে শক্ত হাতে দমন করতে চাই তাহলে কি নিজেকে প্রয়োজনে এই ছোট্ট প্রসেস এ নিয়ে যেতে পারিনা? যখন নিজেকে এই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত করতে পারবো তখনই তো একজন সফল মানুষ হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারবো। আর এই সফলতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন শারিরীক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও। এই মানসিক সুস্থতা অর্জনে প্রয়োজন কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি।

    তাহলে চলুন জেনে এমন ৭ টা কারন যেকারণে আমরা থেরাপি নেওয়া চেষ্টা করতে পারি

    ১. নিজেকে গভীরভাবে জানা বা আবেগগত সমস্যা 

    • আমরা প্রায়ই জীবনের দৌড়ঝাঁপে নিজের ভেতরের মানুষটাকে চিনি না। কিন্তু মনে তীব্র আবেগ বা কষ্ট জমে থাকলে তা আমাদের দৈনন্দিন কাজে অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে। কারো কারো যেমন ছোটখাট বিষয়গুলোতে তীব্র দুশ্চিন্তা কাজ করে, কারো কারো আবার বেশির ভাগ সময় মন খারাপ থাকে, অনেক সময় একই চিন্তা বা একই কাজ বাধ্যতামূলকভাবে বার বার করতে হয়।আবার রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ হলেও অনেক ক্ষেত্রে রাগ অন্যদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়, দৈনন্দিন ও  পেশাগত কাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তখন তা নিজে নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এ বিষয়ে দক্ষ সাইকোলজিস্টের কাছে কাউন্সেলিং নেওয়া যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি নিতে হয়। থেরাপি সেই আয়নার মতো কাজ করে, যেখানে নিজের অজানা দিকগুলো দেখা যায়।

    ঠিক যেমন, উপরের দেওয়া উদাহরনে আবির বুঝতে পারল তার রাগের পেছনে আসলে ভয় কাজ করছে; অনিরাপত্তার ভয়। ভেতরে ভেতরে সে ভীষণ অনিরাপদ বোধ করে। ছোটবেলায় বাবার সমালোচনার কারণে সে শিখেছিল, দুর্বলতা না দেখিয়ে রাগ দেখানোই যথাপোযুক্ত কাজ। কিন্তু আগে সে শুধু নিজের রাগটাই দেখত, এই অনুভূতিকে প্রাধান্য দিত সব সমস্যার সমাধান হিসেবে। কিন্তু থেরাপির মাধ্যমে বুঝল মূল কারণটা অন্য কিছু। 

    থেরাপি আমাদের সেই ভেতরের লুকানো কারণগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করে, যা আমরা নিজেরাও জানি না। এই নিজেকে বুঝতে পারা এবং সেখান থেকে সচেতনতাই সাধারনত আমাদের আচরণ পরিবর্তনে সাহায্য করে।

    ২. চাপ ও দুশ্চিন্তা সামলানোর কৌশল শেখায়

    • আজকের যুগে চাপের মধ্যে নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। জীবনে যত এগিয়ে যায়, তত দায়িত্ব বাড়তে থেকে সেখান থেকে যার যত ব্যস্ত থাকতে হয়, তাকে তত বেশি মাত্রার মানসিক চাপ নিতে হয়। সাধারণত মানসিক চাপগুলো আমরা নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারি। কিন্তু এরপরও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করতে অসুবিধা বোধ করি কিংবা এমনভাবে মোকাবিলা করতে যাই তাতে দেখা যায় হিতে বিপরীত হয়ে যায়। এই অতিরিক্ত মানসিক চাপ সব সময় আমাদের পক্ষে সামলানো সহজ হয় না; তখন আমরা কাউন্সেলিং সেবা নিতে পারি। থেরাপিতে একজন অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট ব্যক্তিকে এই মানসিক চাপ সামলে ওঠার ম্যানেজমেন্ট প্রসেস এ সায়েন্টিফিক পদ্ধতির মাধ্যমে সাহায্য করে থাকেন।

    • নীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, হাত-পা কাঁপে। সে ভাবে, “আমি হয়তো ব্যর্থ হবো।” একদিন ভয় এতটাই বেড়ে যায় যে সে পরীক্ষার হলে ঢুকতেই পারেনি। তাকে তার শিক্ষক রা কাউন্সেলিং সেবার ব্যবস্থা করে দিল। সেখানে সে থেরাপিতে ধাপে ধাপে শিখল কীভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কীভাবে নেগেটিভ চিন্তা চ্যালেঞ্জ করতে হয় এবং এই স্ট্রেস টা ম্যানেজ করতে হয়। কয়েক মাস পর থেকে সে স্বাভাবিকভাবে তার সকল কাজে নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করলো। এভাবেই নীলা দীর্ঘ সময় এর সমস্যা থেকে বের হতে পারলো কাউন্সেলিং সেশন এর মাধ্যমে। 
      মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা মোকাবেলায় কাউন্সেলিং কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

    ৩. সম্পর্কে দূরত্ব ঘুচিয়ে ঘনিষ্ঠতা আনতে 

    জীবনের দীর্ঘ পথে দাম্পত্য ও পারিবারিক সম্পর্কে কখনো কখনো দূরত্ব চলে আসে। ব্যস্ততা, ভুল বোঝাবুঝি, কিংবা অপ্রকাশিত কষ্ট এসবের কারণে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও ভাটা পড়তে পারে। প্রথম ধাপে নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা বা বিশ্বস্ত ব্যক্তি ও গুরুজনদের সহায়তা নেওয়া জরুরি। তবে অনেক সময় তা যথেষ্ট হয় না, তখন থেরাপি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

    আমাদের ভেতরের অমীমাংসিত সমস্যা, ভয় কিংবা নিরাপত্তাহীনতা প্রায়ই সম্পর্কের আচরণে ফুটে ওঠে। থেরাপি এই ভেতরের কারণগুলো চিহ্নিত করে, যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ায় এবং ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে।

    উদাহরণ ১: আবির ধীরে ধীরে তার বন্ধু ও পরিবারের সাথে দূরত্ব তৈরি করছিল। সবাইকে “ব্যস্ততার” অজুহাত দিত, যেন সে কারও কাছে সময় দিতে চায় না। থেরাপিতে গিয়ে সে আবিষ্কার করলো, তার আসল ভয় হলো “কেউ তাকে গুরুত্ব দিবে না, দুর্বল ভাববে।” এই ভয় প্রকাশ করার পর তার পরিবার ও বন্ধু তাকে নতুন করে বুঝল। ফলে সম্পর্কগুলো আবার আগের মতো হওয়া শুরু করলো সবাই একে অপরকে বোঝার মাধ্যমে।

    উদাহরণ ২: রিয়াদ ও তার স্ত্রী প্রায়ই তুচ্ছ কারণে তর্কে জড়িয়ে পড়ত। রিয়াদ মনে করত, “স্ত্রী আমাকে বোঝে না।” অথচ থেরাপিতে সে বুঝল, আসলে সে কখনো নিজের অনুভূতি সঠিকভাবে প্রকাশ করতেই শেখেনি। থেরাপিস্ট তাদের দুজনকে শেখালেন কিভাবে অভিযোগ না করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে হয়। যেমন,“তুমি সবসময় শোন না” বললে সেটা দোষারোপের মতো শোনায়, আর এতে অন্যজন রাগ করে জবাব দেয় বা নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু যদি বলা যায়, “যখন তুমি আমার কথা মন দিয়ে শোনো না, তখন আমি একা আর অবহেলিত বোধ করি”, তাহলে সেটি দোষারোপ নয়, বরং নিজের অনুভূতির কথা বলা হয়।

    এই ছোট্ট একটি কৌশল কিন্তু সম্পর্কের ভেতরে বড় পরিবর্তন আনল। আগে যেখানে সামান্য বিষয়ে রিয়াদ আর তার স্ত্রীর মধ্যে তর্ক লেগেই থাকত, সেখানে ধীরে ধীরে তারা একে অপরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে শিখল। ফলে ঝগড়া কমতে শুরু করল, বোঝাপড়া বাড়ল, আর সম্পর্কে যেন নতুন করে উষ্ণতা ও প্রাণ ফিরে এল।

    থেরাপি তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্ককেও সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করে তুলতে পারে।

    ৪. ব্যক্তিগত উন্নতি ও লক্ষ্য বা ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং 

    • আমাদের দেশে দেখা যায় বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের ওপর নিজেদের পছন্দমতো পেশা চাপিয়ে দেন। কিন্তু ছেলে/মেয়ের কোন পেশাতে আগ্রহ বা কোন পেশা গ্রহণ করলে তার ভালো করা সম্ভাবনা আছে; তা জেনে পেশা গ্রহণ করলে সফলতা অর্জনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত সাইকোলজিক্যাল টেস্ট প্রয়োগ করে সাইকোলজিস্ট ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারেন। যেমন খেলোয়াড়রা কোচের সাহায্যে তাদের বেস্ট পার্ফরমেন্স দিতে পারে, তেমনি থেরাপি একজন মানুষকে তার জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে আর বাধা অতিক্রম করতে শেখায়।

    • আবির থেরাপিতে তার ক্যারিয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করল। আগে শুধু “ভালো চাকরি” চাইত, এখন সে জানে ঠিক কীভাবে তার passion ও কাজকে মিলিয়ে নিতে হবে।

    • ফারহানা সবসময় ভাবত, তার কোনো বিশেষ যোগ্যতা নেই। আশেপাশের সবাই তাকে প্রতিভাবান বললেও, সে নিজে তা বিশ্বাস করত না। থেরাপিতে গিয়ে সে তার ছোটবেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবতে শিখল। তখনই বুঝতে পারল, বারবার অবমূল্যায়নের কারণে তার ভেতরের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে সে নিজের শক্তি চিনতে পারল, আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল। আর একদিন সাহস করে নিজের ছোট ব্যবসা শুরু করল।

    থেরাপি শুধু মানসিক সমস্যা নয়, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিতেও দিকনির্দেশনা দেয়। থেরাপি আমাদের অজানা সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসে এবং জীবনের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে।
    ৫. মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে

    • সবচেয়ে বড় কথা, থেরাপি নেওয়া দুর্বলতা নয়, বরং নিজের ভেতরের কষ্টের মুখোমুখি হওয়ার সাহস। যেমন আমরা শরীর খারাপ হলে ডাক্তার দেখাই, তেমনি মন খারাপ হলে থেরাপিস্টের কাছে যাওয়াও একেবারেই স্বাভাবিক। এটা আসলে বোঝায় যে আপনি নিজেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং সুস্থ জীবনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছেন।

    • উপরের গল্পের নীলা ও আবির যখন তাদের কাউন্সেলিং অভিজ্ঞতা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করল, অনেকেই অবাক হলো, “ওরা তো সুস্থ তাহলে কেন থেরাপি নিতে হচ্ছে?” কিন্তু পরে বুঝল, এটা আসল তাদের সচেতনতা আর সাহসিকতা। নিজেদের প্রবলেম গুলো নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে না থেকে, নিজেকে ভালো রাখার যুদ্ধে নেমেছে এবং জয়ীও হয়েছে। এই নিজের মনের যত্ন নেওয়া মানে এক ধরনের ম্যাচিউরিটি যা তাকে শারিরীকভাবেও সুস্থ রাখবে। এই চেষ্টা হলো, নিজেকে ভালোবাসতে ও ভালো রাখতে শুরু করা। যদি আমরা আরোও কিছু ঘটনা দেখি ছোট্ট করে তাহলে আরো পরিষ্কার করে বুঝতে পারবো।

    • শাওন প্রথমে থেরাপিতে যাওয়া গোপন রাখত। ভাবত, “বন্ধুরা জেনে গেলে হাসাহাসি করবে।” কিন্তু পরে যখন সে বুঝল থেরাপি তাকে কীভাবে বদলাচ্ছে, তখন একদিন বন্ধুদের বলল, “আমি থেরাপি নিচ্ছি, এটা আমাকে অনেক সাহায্য করছে।” আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তার কয়েকজন বন্ধু তখনও নিজেদের সমস্যার কথা শেয়ার করল এবং কাউন্সেলিং নেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করল।

    আমাদের জীবনে কোনো দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হলে বা দেখলে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দৃশ্যগুলো বার বার মনে আসা, ওই সব জায়গা এড়িয়ে চলা, মনে পড়লে তীব্রভাবে কষ্ট লাগে যা ট্রমার লক্ষণ।  

    আবার হঠাৎ করে কেউ মারা গেলে আমাদের তীব্র কষ্টের অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিনধরে তা থাকলে ও রেগুলার কাজকর্ম ব্যাহত হলে কাউন্সেলিং নেওয়াটা খুবই জরুরি।

    আত্মহত্যার চিন্তা এলে বা কেউ আত্মহত্যা করার কথা প্রকাশ করলে তা খুবই গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে (যেমন : রিলাক্সি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট) প্রয়োজনীয় জরুরী সেবা নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং খুবই প্রয়োজনীয়।

    যে কোনো ধরনের মানসিক অসুস্থতায় ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি নিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। কারণ সাইকোথেরাপি পুনরায় রোগটি হবার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

    সুতরাং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জীবনকে সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে এগিয়ে নিয়ে যেতেই প্রয়োজন কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি। তবে মনে রাখা দরকার এটা কোনো ম্যাজিক নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট এর সহায়তায় ব্যক্তি নিজেই নিজেকে সমস্যা থেকে বের করে নিয়ে আসেন। এক্ষেত্রে সাবধানতা হচ্ছে কাউন্সেলিং গ্রহণের আগে অবশ্যই কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্টের যথাযথ যোগ্যতা (একাডেমিক+প্রশিক্ষণ) সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

    একজন যখন সাহস করে কাউন্সেলিং বেছে নেন, তখন সেটি ব্যক্তির জীবনে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
    ৬. শিশুর আচরণগত সমস্যা 

    কাউন্সেলিং যে শুধু আমাদের বড়দের ই প্রয়োজন তা কিন্তু না। অনেক সময় শিশু-কিশোরদের নানা ধরনের আচরণগত সমস্যা দেখা যায় যেমন; অতি চঞ্চলতা, মিথ্যা বলা, চুরি করা, আক্রমণাত্মক আচরণ করা, স্কুল বা বাড়ি থেকে পালানো, পড়াশোনায় অমনোযোগ, স্কুলে যেতে না চাওয়া, ভয় পাওয়া, মাকে ছেড়ে কোথাও যেতে না চাওয়া, একা একা থাকা বা সবার সাথে না খেলতে চাওয়া, সবার সাথে মিশতে না চাওয়া, চোখের দিকে না তাকানো প্রভৃতি আচরণগত সমস্যার জন্য সাইকোথেরাপি নিতে হয়।

    আরাফাতের ছেলে স্কুলে অমনোযোগী, বাড়িতে অবাধ্য, আর প্রায়ই রাগারাগি করত। বাবা-মা প্রথমে ভেবেছিলেন বোধহয় ছেলের “স্বভাব” এমন। কিন্তু চাইল্ড কাউন্সেলিং এ গিয়ে তারা শিখলেন কিভাবে বাচ্চার অনুভূতি বোঝা ও সঠিকভাবে গাইড করা যায়। কয়েক মাসের মধ্যেই ছেলের আচরণ অনেকটা বদলে গেল। কাউন্সেলিং শিশুদের আচরণগত সমস্যায় শুধু শিশুকে নয়, বাবা-মাকেও সঠিক পথে পরিচালনা করে।

    ৭. ঘুমের সমস্যা

    কোনো শারীরিক কারণ ছাড়াই ঘুমের সমস্যা হলে কাউন্সেলিং খুবই কার্যকর। থেরাপিস্ট তার  ঘুম না হওয়ার পেছনে মানসিক কোনো কারণ আছে কিনা তা খুঁজে দেখেন। যদি মানসিক কারণ থাকে তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়। আর যদি তা না থাকে তাহলে শুধু লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর ও স্লিপ হাইজিন এর মাধ্যমে ঘুমের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করেন।

    উদাহরনঃ মাহিরা রাত জেগে ফোন স্ক্রল করত, ঘুম আসত না, ফলে সকালে কাজে মনোযোগ দিতে পারত না। সে ভাবত এটা “স্বাভাবিক।” কাউন্সেলিং এ গিয়ে সে বুঝল তার অনিদ্রা আসলে দুশ্চিন্তার ফল। থেরাপিস্ট তাকে স্লিপ hygiene ও relaxation technique শিখালেন। ধীরে ধীরে সে আবার স্বাভাবিক ঘুম ফিরে পেল।থেরাপি ঘুম-সংক্রান্ত সমস্যাও সমাধান করতে পারে, যা সরাসরি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।

    এইতো জেনে নিলাম কেন আমরা একবার হলেও কাউন্সেলিং ট্রাই করবো। এখন আসুন জেনে নেই কিভাবে রিলাক্সি থেকে সেশন বুক করবো:

    রিলাক্সি থেকে কিভাবে সেশন বুক করবেন? 

    আপনি যদি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা অন্য কোনো আবেগগত সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে চান, Relaxy-এর দক্ষ থেরাপিস্টরা আপনাকে  সাহায্য করতে পারে। Relaxy-তে প্রশিক্ষিত সাইকোথেরাপিস্টরা একটি নিরাপদ এবং গোপনীয় পরিবেশে আপনার সাথে সেশন নিয়ে থাকবেন। তারা জাজমেন্ট না করে, আপনার কথা শুনে এবং বুঝে আপনাকে সাহায্য করবেন। এখানে আপনি আপনার চিন্তা, অনুভূতি এবং সমস্যাগুলো খোলাখুলি শেয়ার করতে পারবেন। 

    আমাদের সাইকোথেরাপিস্টরা প্রফেশনাল এবং অভিজ্ঞ, যে কারনে তারা আপনাকে আপনার চিন্তা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করবে এবং আপনি কি অনুভব করছেন তা বোঝার চেষ্টা করে আপনাকে সাহায্য করবেন আপনার সমস্যা সমাধানে।

     তাহলে আর দেরি কেন! চলেন দেখে নেই কিভাবে শুরু করবেন রিলাক্সি থেকে সেশন নেওয়া:

    Relaxy-র ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যান এবং আপনার জন্য সুবিধাজনক থেরাপিস্ট বাছাই করুন।
    থেরাপিস্টের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অভিজ্ঞতা দেখে বাছাই করুন।
    আপনার সুবিধা অনুযায়ী সেশন টাইম এবং ধরন (ফেস-টু-ফেস, অনলাইন) ঠিক করুন।
    প্রথম সেশনে নিজের লক্ষ্য, উদ্বেগ এবং সমস্যা শেয়ার করুন। থেরাপিস্ট আপনাকে বুঝে এবং পরবর্তী ধাপগুলো সাজিয়ে দেবেন।
    Relaxy-তে থেরাপি শুরু করা মানে হলো একটি নিরাপদ ও সাপোর্টিভ জার্নি, যেখানে ধীরে ধীরে আপনি আপনার আবেগ, চিন্তা এবং আচরণ বোঝার এবং নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা অর্জন করবেন। এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি শক্তিশালী ও প্রয়োজনীয়  প্রথম ধাপ।

    রিলাক্সি থেকে অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট দের সাথে সেশন বুক করুন এই লিংক থেকে।

Did you find this article helpful?

Saima Islam

Saima Islam

Assistant Clinical Psychologist

Rating4.95
2+ years experience

Warm and empathetic psychologist specializing in CBT and DBT for depression, anxiety, trauma, and relationship challenges

Book a Session
Relaxy SupportOnline
Relaxy Support

Hello! 👋 How can we help you today?

09:00
7 Life Changing Reasons to Seek Counseling