
পিটিএসডির সাথে বসবাস?: কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন এবং মানসিক শান্তি খুঁজে পাবেন
On March 19, 2025পিটিএসডি কি শুধুই আপনার একার সমস্যা? জেনে নিন আসল সত্য!
না, আপনি একা নন। পিটিএসডি (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) এমন একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যা যেকোনো বয়সের মানুষ অভিজ্ঞতা করতে পারেন। এটি সাধারণত কোনো ভয়াবহ বা মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ঘটনার পর দেখা দেয়।
আগেকার দিনে যুদ্ধফেরত সৈনিকদের মধ্যে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যেত, কিন্তু এখন আমরা জানি যে, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, কিংবা কোনো বড় ধরনের শোকের পরেও পিটিএসডি হতে পারে। আপনার মস্তিষ্ক যখন কোনো ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার স্মৃতি থেকে বের হতে পারে না, তখন এটি ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন, হঠাৎ আতঙ্ক, অস্থিরতা বা আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার মতো নানা উপসর্গ তৈরি করে।
এটি নিরাময়যোগ্য, তবে এর জন্য ধৈর্য এবং সঠিক সমর্থন দরকার।
আপনি কি পিটিএসডি-এর শিকার? লক্ষণগুলো চিনে নিন:
🔴 অতীতের দুঃসহ অভিজ্ঞতা বারবার মনে পড়া
কোনো ভয়ানক স্মৃতি বা দুর্ঘটনার মুহূর্ত মনের মধ্যে ঘুরতে থাকে, যা আপনাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। হঠাৎ করেই সেই মুহূর্ত যেন আবার বাস্তবে ঘটে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে।
🔴 দুঃস্বপ্ন বা ফ্ল্যাশব্যাক অনুভব করা
পিটিএসডি আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই একই ধরণের দুঃস্বপ্ন দেখে থাকেন, যেখানে তারা বারবার সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। অনেক সময় তারা হঠাৎ করেই ফ্ল্যাশব্যাকের শিকার হন, যেখানে বাস্তবতা ও স্মৃতির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
🔴 হঠাৎ ভয় বা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়া
সাধারণত পিটিএসডি আক্রান্তরা অপ্রত্যাশিতভাবে ভয় পেয়ে যান বা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এমনকি কোনো সাধারণ ঘটনা, শব্দ বা দৃশ্য তাদের মনে পুরোনো ট্রমা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং তারা শারীরিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন, যেমন—হৃৎপিণ্ড দ্রুত ধরা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা ঘামতে থাকা।
🔴 ছোটখাটো শব্দেও চমকে ওঠা
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা পিটিএসডি-এর অন্যতম লক্ষণ। হঠাৎ গাড়ির হর্ন, দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ বা কারো জোরে কথা বলা থেকেও চমকে ওঠার প্রবণতা দেখা যায়।
🔴 একা থাকতে না চাওয়া বা অতিরিক্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া
অনেকেই ভয় পেয়ে একা থাকতে চান না, আবার কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে মানুষজন এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেওয়া পিটিএসডি আক্রান্তদের সাধারণ আচরণ।
🔴 রাগ, দুশ্চিন্তা বা অপরাধবোধে ভোগা
এই মানসিক অবস্থার ফলে অনেকেই নিজেদের দোষারোপ করতে থাকেন, অপরাধবোধে ভোগেন বা তীব্র রাগ অনুভব করেন। তারা মনে করেন, হয়তো ওই ঘটনার জন্য তারাই দায়ী, অথবা পরিস্থিতি আর কখনোই ভালো হবে না।
🔴 মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া
কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অফিসের কাজ, পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজেও একাগ্রতা কমে যায়, যা ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
🔴 ঘুমের সমস্যা হওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা
অনেকেই ঘুমাতে গেলে ভয়ংকর স্মৃতিগুলোর কথা বেশি মনে করেন, যার ফলে ঘুম কমে যায় বা বারবার ঘুম ভেঙে যায়। আবার কেউ কেউ দিনের বেশিরভাগ সময় ক্লান্তি অনুভব করেন, কোনো কিছুতে শক্তি পান না।
আপনি যদি এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করেন, তাহলে কিছু কার্যকর কৌশল আপনাকে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে।
পিটিএসডি থেকে বের হয়ে আসতে এখনই এই সহজ টিপসগুলো অনুসরণ করুন!
ট্রমার অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়া সহজ নয়। অতীতের দুঃসহ স্মৃতি অনেক সময় মনে দাগ কেটে যায়, যা পিটিএসডি (Post-Traumatic Stress Disorder) তৈরি করতে পারে। এটি উদ্বেগ, আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা, এবং মানসিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে সুখবর হলো—আপনি এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া সম্ভব। কীভাবে? চলুন জেনে নিই।
নিজের অনুভূতি স্বীকার করুন, দমিয়ে রাখবেন না
ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ হলো নিজের অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করা। পিটিএসডি আপনাকে আতঙ্কিত, অসহায় বা অস্থির করে তুলতে পারে—এটি একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এগুলো চেপে রাখেন বা এড়িয়ে যান, তাহলে মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। বরং অনুভূতিগুলোকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং ধীরে ধীরে সেগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিন।
পেশাদার সাহায্য নিন—আপনার মানসিক স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ
থেরাপি পিটিএসডি কাটিয়ে ওঠার অন্যতম কার্যকর উপায়। অনেকেই মনে করেন, পেশাদার সাহায্য নেওয়া দুর্বলতার লক্ষণ, কিন্তু সত্য হলো—এটি মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি।
✅ CBT (Cognitive Behavioral Therapy): নেতিবাচক চিন্তাগুলো চিহ্নিত করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
✅ EMDR (Eye Movement Desensitization and Reprocessing): ট্রমাটিক স্মৃতির তীব্রতা কমাতে সহায়ক।
✅ Exposure Therapy: ধাপে ধাপে ভয়ের মুখোমুখি করিয়ে ট্রমার প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখুন
শারীরিক সুস্থতা আপনার মানসিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই—
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন—হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ধ্যান স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
- গভীর শ্বাস নিন ও রিলাক্সেশন টেকনিক ব্যবহার করুন—এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে।
- সুষম খাবার খান—অস্বাস্থ্যকর খাবার মানসিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আপনার পিটিএসডি ট্রিগারগুলো চিহ্নিত করুন
কোনো নির্দিষ্ট স্থান, শব্দ, গন্ধ, বা স্মৃতি কি আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে? ট্রিগারগুলো চিহ্নিত করুন এবং ধীরে ধীরে সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল শিখুন।
একটি সহজ গ্রাউন্ডিং টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন—
👀 ৫টি জিনিস দেখুন
🤲 ৪টি জিনিস স্পর্শ করুন
👂 ৩টি শব্দ শুনুন
👃 ২টি গন্ধ চেনার চেষ্টা করুন
👅 ১টি স্বাদ অনুভব করুন
এটি আপনাকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে এবং উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হবে।
মানুষের সংস্পর্শে থাকুন—একা থাকবেন না
ট্রমার কারণে অনেক সময় আমরা নিজেকে গুটিয়ে ফেলি, কিন্তু এটি পিটিএসডি-এর উপসর্গকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান—ঘনিষ্ঠ সম্পর্কগুলো মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সাপোর্ট গ্রুপে যোগ দিন বা কাউন্সেলিং নিন—অন্যান্য মানুষের অভিজ্ঞতা শুনলে বোঝা সহজ হয় যে আপনি একা নন।
নিজের প্রতি দয়ালু হোন
ট্রমার জন্য নিজেকে দোষারোপ করবেন না। আপনি দোষী নন।
নিজের ছোট ছোট অগ্রগতিকেও স্বীকৃতি দিন। নিজেকে ভালোবাসুন, সময় দিন, এবং ধৈর্য ধরুন—সুস্থ হওয়া সময়সাপেক্ষ, কিন্তু একেবারে সম্ভব।
প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন
যদি পিটিএসডি-এর উপসর্গ খুব বেশি তীব্র হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক ওষুধ ও থেরাপি মানসিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পিটিএসডি-এর ফলে সৃষ্ট রাগ ও হতাশা শুধু আপনাকেই নয়, আপনার পরিবার ও আশেপাশের মানুষকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই এই আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। যদি মনে হয়, নিজের পক্ষে তা সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তাহলে পেশাদার থেরাপিস্টের সহায়তা নিন।
🔹 রিল্যাক্সি থেকে পিটিএসডি ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ থেরাপি সেশন
আমাদের বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্টদের সাহায্যে আপনি শিখতে পারবেন—
✅ কীভাবে ট্রমা-সংশ্লিষ্ট রাগ ও হতাশা নিয়ন্ত্রণ করবেন
✅ কীভাবে ট্রিগারগুলো চিহ্নিত করে নিজেকে শান্ত রাখতে পারবেন
✅ কীভাবে আপনার মানসিক শক্তিকে পুনরুদ্ধার করবেন
👉 রিল্যাক্সি অ্যাপ ডাউনলোড করুন
👉 একজন থেরাপিস্টের সঙ্গে সেশন বুক করুন
আপনার মানসিক সুস্থতাই আপনার শক্তি। পিটিএসডি মোকাবিলার প্রথম ধাপ হলো স্বীকৃতি ও সঠিক সহায়তা গ্রহণ। তাই আর অপেক্ষা না করে, নিজের ও আশেপাশের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করুন!